যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর দেশটিতে আশ্রয় সংক্রান্ত সব ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে কোনো আশ্রয় আবেদন অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান বা বন্ধ; কোনোটিই এখন থেকে কার্যকর করা যাচ্ছে না।
শুক্রবার মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) পরিচালক জোসেফ এডলো এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। তার ভাষায়, প্রতিটি বিদেশির সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা যাচাই নিশ্চিত করতেই এই বিরতি।
এছাড়া নিরাপত্তা যাচাই পুনর্বিবেচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র আফগান নাগরিকদের সব অভিবাসন আবেদনও স্থগিত করেছে। ইউএসসিআইএস জানায়, ১৯টি দেশের গ্রিন কার্ড আবেদন পুনঃপর্যালোচনা করা হবে।
ওয়াশিংটনের গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বিশেষ অভিবাসন কর্মসূচির আওতায়, যা মূলত আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিতে প্রণয়ন করা হয়েছিল।
সিআইএ জানিয়েছে, লাখানওয়াল সংস্থাটির সঙ্গেও কাজ করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ও সংস্থার কাজে যোগদানের আগে উভয় পর্যায়ে তার ব্যাপক যাচাই করা হয়েছিল।
লাখানওয়ালের এক বন্ধু নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন, যা এ বছর অনুমোদিত হয়। তবে তার গ্রিন কার্ড আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
হামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না বলে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বুধবারের ওই হামলায় ২০ বছর বয়সী সারা বেকস্ট্রম মারা গেছেন। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার এই তরুণী ট্রাম্পের অপরাধ দমন অভিযানের অংশ হিসেবে ডিসিতে মোতায়েন ছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানান, থ্যাঙ্কসগিভিং ছুটির সময় তিনি স্বেচ্ছায় সেখানে দায়িত্ব পালনে যান।
আরেক সদস্য, ২৪ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু উলফ, গুরুতর আহত অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
প্রদা/ডিও







