টেস্ট ক্রিকেটে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে এক রূপকথার জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ। মিরপুরের পর সিলেট টেস্টেও সফরকারীদের ৭৮ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ঐতিহাসিক ক্লিনসুইপ করল শান্তর দল।
জয়ের জন্য ৪৩৭ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে ম্যাচের শেষ দিনে ৩৫৮ রানে থামে বাবর-রিজওয়ানদের ইনিংস। পঞ্চম দিনে প্রতিরোধ গড়া সাজিদ খানকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের আরেকটি ৫ উইকেট শিকারের মাইলফলক ছোঁন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের জানান দিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ঘরের চেনা মাঠে শুরু থেকেই পাকিস্তানি শিবিরকে কোণঠাসা করে রেখে চিরস্মরণীয় এক সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরল স্বাগতিকরা।
মূলত টাইগারদের ইতিহাস: সিলেটে ধূলিসাৎ পাকিস্তান, প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের বাঁধভাঙা উল্লাস পুরো স্টেডিয়ামে এক উৎসবের আমেজ তৈরি করে। ক্রিকেট ইতিহাসে এবারই প্রথম নিজেদের আঙিনায় ঐতিহ্যবাহী টেস্ট ফরম্যাটে পাকিস্তানিদের হোয়াইটওয়াশ করার গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ।
চতুর্থ দিনে ৭ উইকেটে ৩১৭ রান তুলে ম্যাচ জমিয়ে তোলা সফরকারীরা আজ শেষ সকালে বাকি ৩ উইকেটে ১২০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামে। বর্তমানে টাইগারদের ইতিহাস: সিলেটে ধূলিসাৎ পাকিস্তান, প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ রুখে দেওয়ার স্বপ্নে তখন ক্রিজে লড়াই করছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান।
দিনের শুরুতেই পেসার নাহিদ রানার অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে রিজওয়ান স্লিপে ক্যাচ তুলে দিলেও তা তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন মেহেদী মিরাজ। জীবন পেয়ে এই জুটি দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশকে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল।
তবে প্রতিপক্ষের সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। বর্তমানে টাইগারদের ইতিহাস: সিলেটে ধূলিসাৎ পাকিস্তান, প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিতের ক্ষণে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সাজিদ খানকে (২৮) সাজঘরে ফিরিয়ে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি জাদুকর।
এরপর পাকিস্তানের বাকি ব্যাটাররা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লে ৭৮ রানের এক অবিশ্বাস্য জয় পায় বাংলাদেশ। পরিশেষে বলা যায়, এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের টেস্ট সামর্থ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।







