ঈদুল আজহা সামনে রেখে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের ঐতিহ্যবাহী পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে। অন্যান্য বছর এ মৌসুমে মসলা জাতীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম চড়া থাকলেও এবার প্রতিটি পণ্য গত বছরের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিবেশী দেশ থেকে চোরাইপথে মসলা আসায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কমেছে চট্টগ্রামের বাইরের বিভিন্ন স্থানের ক্রেতাও।
খাতুনগঞ্জের একাধিক মসলা ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আগে ঈদের আগেই মসলার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা ছুটে আসতেন। কিন্তু এবারে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের আনাগোনা কমে গেছে। ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা যায় প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ টাকায়। গত বছর যা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার ৮০০ টাকা। এবারে জিরা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৩০ টাকা, গত বছর বিক্রি হয়েছে ৬৫০ টাকায়। দারুচিনির কেজি বর্তমান বাজারে ৪০৫ টাকা। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ৪৬০ টাকায়। প্রতি কেজি লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২৬০ টাকা দরে। অথচ গত বছর ঈদের আগে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়। কালো গোলমরিচের কেজি ৯৯০ টাকা, যা গত বছর ছিল কেজিতে ১ হাজার ১০০ টাকা।
খাতুনগঞ্জের ডাল ও মসলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স তৈয়বিয়া ট্রেডার্সের স্বত্ব¡াধিকারী এবং খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, ‘এবার মসলার বেচাকেনা আগের তুলনায় অনেক কমেছে।’ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন কুমিল্লা, ফেনী, রাজশাহী, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মসলা দেশের বাজারে ঢুকছে। চোরাইপথে আসা মসলা যে দামে বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ করে আমদানিকৃত মসলা সে দামে বিক্রি করা সম্ভব না। যে কারণে ওই সব এলাকার পাইকাররা আর খাতুনগঞ্জমুখী হচ্ছেন না।
পাইকারি বাজারে দাম নিম্নমুখী হলেও চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মসলা। নগরীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারের সঙ্গে দামের ব্যাপক তারতম্য। লালখান বাজার এলাকার আবদুল মজিদ স্টোরের বিক্রয়কর্মী সোবহান জানান, এলাচ ৪ হাজার ৫০০ টাকা, জিরা ৭০০ টাকা, দারুচিনি ৬০০ টাকা, লবঙ্গ ২ হাজার টাকা ও গোলমরিচ ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খাতুনগঞ্জের সঙ্গে দামের তারতম্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে এখন দাম কিছুটা কমতি হলেও দুই মাস আগে যখন দাম আরও বেশি ছিল তখন আমাদের কেনা।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ঈদ উপলক্ষে মসলার পাইকারি বেচাকেনা শুরু হয় অন্তত তিন মাস আগে থেকে। ঈদের শেষ দিকে বেচাকেনা কমে যাওয়ায় তারা দাম কমিয়ে দিয়েছেন।







