লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে নির্বাচনী সিল তৈরির ঘটনায় স্থানীয় এক জামায়াত নেতা ও এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও মামলার প্রধান আসামি জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন শরীফ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই বিতর্ক এড়াতে সংশ্লিষ্ট নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা জামায়াত।
সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কের ‘মারইয়াম প্রিন্টার্স’ থেকে ১৬ ঘরের ৬টি নির্বাচনী সিল, একটি কম্পিউটার ও মোবাইল জব্দ করা হয়। দোকানের মালিক সোহেল রানাকে আটকের পর জানা যায়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ও ‘আধুনিক অফসেট অ্যান্ড ডিজিটাল সাইন’-এর মালিক সৌরভ হোসেন শরীফ এই সিলগুলো তৈরির অর্ডার দিয়েছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো একটি ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে তিনি জাল ভোট প্রদানের অসৎ উদ্দেশ্যে এই সিলগুলো বানানোর নির্দেশ দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কলঙ্কিত করতে এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জাল ভোট দেওয়ার লক্ষ্যে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে এই সিলকাণ্ড ঘটিয়েছে।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক সোহেল রানা তাদের দলের কেউ নন। তবে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া এই বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে দ্রুতই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনির হোসেন জানান, গ্রেপ্তার সোহেলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামি শরীফকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এই জালিয়াতি চক্রের পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রদা/ডিও







