বর্তমানে হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক উত্তেজনার কারণে সরাসরি প্রভাব পড়ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ হঠাৎ বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারায় উদ্যোক্তাদের লাভ কমে যাচ্ছে।
এছাড়া আমদানি-নির্ভর কাঁচামাল সময়মতো না পৌঁছানো বা বিলম্বিত হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলো বড় প্রতিষ্ঠানের মতো দীর্ঘ সময়ের স্টক ধরে রাখতে পারে না, ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে সামান্য বিঘ্নও তাদের কার্যক্রমে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত মূলধন সংকট, কাঁচামালের উচ্চ মূল্য এবং ঋণের সীমাবদ্ধতার কারণে মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। বিনিয়োগের অভাবে উৎপাদন কমেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে সঠিক নীতিমালা ও সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে এই খাত কর্মসংস্থান ও জিডিপি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

মূল প্রভাবসমূহ: মূলধন ও বিনিয়োগ সংকট: অধিকাংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত মূলধন পাচ্ছে না, যা তাদের ব্যবসার প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। ব্যাংকগুলোও ছোট ব্যবসায় ঋণ দিতে অনেক সময় সতর্কতা বা দ্বিধা অবলম্বন করে।
কর্মসংস্থানের ঝুঁকি: এই খাতে দেশের মোট শিল্পকর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫% অবদান রাখে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বা সংকুচিত হলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে।
উৎপাদন ও বিক্রিতে মন্দা: উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিক্রির ওপর।
সন্ধ্যায় দোকান বন্ধের প্রভাব: বিশেষ করে খুচরা ব্যবসায়ী এবং ছোট দোকানগুলোতে সন্ধ্যার পর বিক্রি বন্ধ হলে দৈনিক লেনদেনের প্রায় ৩৫-৪০% কমে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে।
সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে নগদ প্রবাহে, খরচ বাড়লেও বিক্রি ও আদায় অনিশ্চিত থাকায় অনেক উদ্যোক্তা উৎপাদন কমাতে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন যার ফলে দেশে লক্ষ লক্ষ বেকার সৃষ্টি হতে পারে।
পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এটি শুধু শ্রমবাজার নয়, বরং নগর অর্থনীতি, আবাসন ও ভোক্তা চাহিদার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।








