হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন মিলবে কি না, তা ১০ মে জানা যেতে পারে। এসব মামলায় জামিন চেয়ে তাঁর করা পৃথক আবেদনের ওপর সেদিন রায়ের তারিখ ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার রায়ের এই দিন ধার্য করেন।
পৃথক পাঁচ মামলায় অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। আবেদনগুলোর ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। এসব মামলায় আবেদনকারীকে (চিন্ময়) কেন জামিন দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।
আদালতে চিন্ময় দাসের পক্ষে আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, পৃথক পাঁচ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। আদালতে রায়ের জন্য ১০ মে তারিখ ধার্য করেছেন।
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুরসহ পৃথক পাঁচ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয় বলে জানান তাঁর আইনজীবী।
এর আগে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ মে চিন্ময় দাসকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলায় ভার্চ্যুয়াল শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখান আদালত। পরে অন্য মামলাগুলোয় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের মামলায় ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়।
চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।






