বেলস পার্ক মাঠে বুধবার দুপুরের রোদে মানুষের ভিড় জমেছিল অনেক আগেই। বেলা ঠিক সাড়ে ১২টার কিছু পরে মঞ্চে উঠতেই করতালি আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জনসভা। প্রায় ২০ বছর পর বরিশালে এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দিলেন, তারপর শুরু করলেন দীর্ঘ বক্তব্য।
যারা নতুন জালেম হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে, যারা গুপ্ত বলে পরিচিত তারা ভুয়া সিল-ব্যালট ছাপাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবর দেখতে পাচ্ছি, যারা নতুন জালেম হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে, যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে তাদের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া সিল ছাপাচ্ছে। আমরা শুনতে পাচ্ছি, তাদের পরিচিত সেসব প্রেস আছে সেখানে তারা ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে, যেটি তারা পকেটে করে নিয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, আমার দেখেছি, তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে নিরীহ মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি নাম্বার নিচ্ছে, বিকাশ নাম্বার নিচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘অত্যন্ত কষ্ট ও ঘৃণার সঙ্গে দেখছি, এই জালেমদের নেতা প্রকাশ্যে নারীদের অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেই নেতা ও কর্মীরা মা-বোনদের জন্য সম্মান দেখায় না, শ্রদ্ধা নেই মা-বোনদের প্রতি, তাদের কাছে বাংলাদেশের মানুষ আত্মসম্মানসূচক আচরণ আশা করতে পারে না। তাদের কাছ থেকে মানুষ অত্মমর্যাদা আশা করতে পারে না।’
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘গুপ্তদের কুমিল্লা জেলার একজন নেতা বলেছেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, ১২ তারিখের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। কোন পর্যায়ের মানুষ তারা, কোন পর্যায়ের মানুষ হলে জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, মানুষকে কিভাবে তারা ট্রিট করছে, তাদের মানসিকতা কোন পর্যায়ের তা বেরিয়ে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘এরা নির্বাচিত হলে জনগণের ভাগ্যে কী দুর্বিসহ জীবন নেমে আসবে, তা বোঝা যাবে। তাই গুপ্তদের উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মা-বোনদের অপমান করার পরে তারা বলে, তারা এ কাজ করেনি। তারা বলছে, তাদের আইডি নাকি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের আইডি হ্যাক হয়নি। যখন তারা ধরা পড়েছে, তখন তারা বিভিন্ন রকম মিথ্যা কথা বলা শুরু করেছে।’
গত বুধবার (০৪ জানুয়ারি) বরিশাল নগরের বান্দ রোডের বেলস পার্কের নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন। ২০০৬ সালের পর এটি ছিল তার প্রথম বরিশাল সফর।
বরিশালে তিনি দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন এবং এ স্বল্প সময়েই লাখো মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেন। সমাবেশকে ঘিরে বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী পার্কসংলগ্ন রাস্তায় অবস্থান নেন। অনেকেই তাকে এক নজর দেখার জন্য গাছের ডালেও উঠে বসেন।







