বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আজকের এই নির্বাচনি জনসভায় আপনাদের সামনে আমি এতটুকু বলতে চাই, ফরিদপুর বিভাগ গঠন করলে যদি সমস্যার সমাধান হয়, তবে বিএনপি তা করবে। আপনাদের মাঝ থেকে ফরিদপুরকে বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার দাবি উঠেছে। আমি কথা দিচ্ছি, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ জয়ী হলে এসব দাবি বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিএনপির।’
বিগত সরকারের উন্নয়নের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি প্রত্যেক এলাকায় নাকি এত উন্নয়ন হয়েছে, তাহলে আপনাদের প্রার্থীরা আজ এত সমস্যার কথা বললো কেন? আসলে বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। দেশে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলেই কেবল দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।’
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারেক রহমান হেলিকপ্টারযোগে সমাবেশস্থলের পাশে ফরিদপুর স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করেন। এরপর সেখান থেকে গাড়িবহর নিয়ে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন। বিকেল ৩টা ২১ মিনিটে তিনি তার বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ফরিদপুর বিভাগের পাঁচটি জেলার বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘এরাই আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারা আপনাদের এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। নির্বাচিত হলে তারা আপনাদের সেবায় ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবেন।’
বক্তব্যে তারেক রহমান আগামী ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে দেশের জন্য নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে নদী ভাঙন রোধ করতে পারলে বৃহত্তর ফরিদপুরের সোনালী আঁশ পাট বিদেশে রপ্তানি করে আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব।’
কৃষক ও নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ‘কৃষক কার্ড’ দেব। এর মাধ্যমে সার ও বীজ সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় বিধায় খেটে খাওয়া পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। বেকারত্ব দূর করতে প্রতিটি এলাকায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কলকারখানা স্থাপন করা হবে যাতে যুবসমাজ সম্মানের সাথে বাঁচতে পারে।’
ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছার সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান ও মো. সেলিমুজ্জামান।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-৩ আসনের প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং শরীয়তপুর-২ আসনের প্রার্থী মিয়া মোহাম্মদ নুরুদ্দিন অপুসহ ফরিদপুর বিভাগের পাঁচটি জেলার মনোনীত প্রার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রদা/ডিও






