আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ বজায় রাখা হচ্ছে না। তারা বলেছে, পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের অবস্থান, দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে জটিলতা, প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ইসির ব্যর্থতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রবাসী ভোটারদের পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক ঠিকমত দেখা যাচ্ছে না। তিনি সতর্ক করেছেন, এটি ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ইসির নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতেও বিএনপি অভিযোগ করেছে, ফ্যাসিবাদের সময় বিদেশে নাগরিকত্ব নেওয়া নেতাদের প্রার্থিতা যাচাইতে ইসি জটিলতা সৃষ্টি করছে।
জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা মাঠ প্রশাসন একটি দলের পক্ষে কাজ করছে। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “মনোনয়ন বাতিল হচ্ছে, আবার একই অপরাধে অন্য প্রার্থীরটা বৈধ করা হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইসির নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, সম্প্রতি ইসির গেটের সামনে একজন আপিলকারীর ওপর হামলা ঘটেছে, যা প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের বৈধতা প্রমাণের ক্ষেত্রে ইসি পক্ষপাতিত্ব করছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, নির্বাচনের আগে এমন অভিযোগ স্পর্শকাতর। ইসির উচিত তা দ্রুত যাচাই করা এবং জনগণকে জানানো, এতে কমিশনের ওপর আস্থা বাড়বে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “ইসির সামনে মারধরের ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, অভিযোগ থাকবেই। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ, ঢালাও অভিযোগে পদক্ষেপ কঠিন। গেটের বাইরে ঘটেছে এমন ঘটনা, তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ স্বাভাবিক। তবে কমিশনকে আইন ও বিধি মেনে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো সিদ্ধান্ত পক্ষপাতমূলক না হয়।
প্রদা/ডিও






