সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংশোধিত বাজেটে বেতন ও ভাতার খাতের বরাদ্দ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার উদ্দেশ্যে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পুরো কাঠামো বাস্তবায়ন করতে না পারলেও, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
মূল বাজেটের সঙ্গে তুলনা করলে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রাথমিক বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে। এতে পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে ৫ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা রাখা হলেও, উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি ও অন্যান্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কারণে পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব হয়নি।
একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার ঘোষণা আসতে পারে। কমিশনের প্রতিবেদনের আশা করা হচ্ছে ২১ জানুয়ারির মধ্যে। জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বা সংশোধিত ভাতা কার্যকর হলে বরাদ্দ যথেষ্ট হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধি দেওয়া হবে। চলতি বাজেটে বেতন-ভাতা খাতের বরাদ্দ ছিল ৮৪,১১৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি।
বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ, এবং নতুন কাঠামো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যদিও তাদের বেতন সরাসরি বাজেট থেকে প্রদত্ত হয় না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসছে। জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে কার্যকর হলে, এটি সরকারি সেক্টরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রদা/ডিও







