দেশের অন্যতম বড় পাইকারি কাপড়ের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত টেরিবাজার। সারাবছরই এখানে পাইকারি ও খুচরা বেচাকেনা চললেও ঈদের সময় চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার, ফেনী, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা বাজারটিতে আসেন। পাইকারি দামের কাছাকাছি মূল্যে পোশাক পাওয়া যায় বলে এখানে মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ই মার্চ) বাজারে ঢুকতেই চোখে পড়ে রঙের উৎসব। সারি সারি ঝুলছে উজ্জ্বল রঙের শাড়ি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা ও পাঞ্জাবি। দোকানে সাজানো এসব নতুন নকশার পোশাক যেন নিজেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। কোথাও আবার দোকানিরা ডেকে ডেকে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। সন্ধ্যা নামার পর বাজারের এই পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আলোয় আলোকিত দোকান, মানুষের কোলাহল, দরদামের তর্ক আর শিশুদের উচ্ছ্বাস- সব মিলিয়ে পুরো বাজারজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
বিক্রেতারা জানান, পাকিস্তানি লন ও এমব্রয়ডারি থ্রি-পিস, ভারতীয় শাড়ি, দেশীয় বুটিক পোশাক, পাঞ্জাবি ও শিশুদের জামা বেশি বিক্রি হচ্ছে। নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে হালকা রঙের কটন ও সিল্কের পোশাকের চাহিদা বেশি। কিশোরী ও তরুণীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নতুন নকশার শাড়ি, থ্রি-পিস ও গয়না। পুরুষদের পাঞ্জাবি, শার্ট, জিনসের প্যান্ট ও জুতা বিক্রি হচ্ছে ব্যাপকহারে। শিশুদের জন্য খেলনা ও সাজসজ্জার সামগ্রীর দোকানগুলোতেও ভিড় দেখা গেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ঈদের বাজারেও। বিশেষ করে শাড়ি, গয়না ও প্রসাধনীর দাম বেড়েছে। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, দাম গত বছরের মতোই রয়েছে। কিছু কিছু পণ্যে দাম বেড়েছে। তবে আনন্দঘন পরিবেশে এ নিয়ে খুব একটা অভিযোগ শোনা যাচ্ছে না।
বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মেগামার্টের শহীদুল নামের এক কর্মী জানান, ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটায় বিশেষ ছাড় চলছে। পাঁচ হাজার টাকার থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে চার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়। আড়াই হাজার টাকার থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে ১৮শ টাকায়।
টেরিবাজারে বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, থ্রি-পিস ৫৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা, শাড়ি ২৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা, পাঞ্জাবি ৫০০ টাকা থেকে সাত হাজার টাকা এবং জিনস প্যান্ট ৬০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
বিকেল থেকে বাড়ে চাপবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের শুরুতে বেচাকেনা কম থাকলেও এখন প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে। বিকেলের পর থেকে ক্রেতার চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অনেক দোকান রাত ১১টা কিংবা মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা রাখতে হচ্ছে। তারা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ সপ্তাহে বেচাকেনা আরও বাড়বে।
দামের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি ও উৎপাদন ব্যয় এবং পরিবহন খরচ বাড়ায় কিছু পোশাকের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে ঈদ উপলক্ষে অনেক দোকানে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা আকৃষ্ট হন।
কক্সবাজার থেকে পাইকারি কাপড় কিনতে আসা ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে এখান থেকে কাপড় কিনে নিয়ে যাই। এখানকার দাম তুলনামূলক কম, ডিজাইনও নতুন পাওয়া যায়। এতে আমাদের ব্যবসায় সুবিধা হয়।’
এভাবেই ক্রেতাদের পদচারণায় প্রতিদিনই নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী টেরিবাজার, যেখানে রঙিন কাপড়ের ভাঁজ খুলে দেখার মধ্য দিয়েই শুরু হয় ঈদের আনন্দ।
প্রদা/ডিও







