জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে খাগড়াছড়িতে লিচুর ভয়াবহ ফলন বিপর্যয় হয়েছে। ক্ষোভ ও হতাশায় অনেক বাগান মালিকরা লিচু গাছ কেটে ফেলার চিন্তা করছেন। বিশেষত চায়না টু ও থ্রি জাতের লিচুর বাগান মালিকরা। গাছে লিচুর ফলন আসেনি বললেই চলে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অনেক কৃষক।
বছরের এই সময়ে লিচু গাছের থোকায় থোকায় লিচু থাকার কথা। অথচ এবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে গাছে লিচুর ফলনই আসেনি। সারা বছর বাগান পরিচর্যা, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের পরও ফলন না আসায় হতাশায় চাষিরা।
বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেও লোকসানে বাগান মালিকরা। গত ২/৩ বছর ধরে গাছে ফলন না আসায় অনেক কৃষক ক্ষোভ ও হতাশায় লিচু গাছ কেটে অনন্য বাগান করার পরিকল্পনা করছে ।
কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন। আমি আজ থেকে ১০ বছর আগে থেকে এই লিচু বাগান শুরু করেছি, কিন্তু এখন পযন্ত কোন আউটপুট পাইনি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি লিচু বাগান কেটে অনন্য বাগান করবো।
কৃষক, আবদুল রশিদ বলেন। আমার ৩টি বাগানে প্রায় ১০০০ হাজার লিচু গাছ আছে। আজ ২/৩বছর ধরে ফলন আসছে না। এবছর ও ১ লক্ষ টাকা খরচ করেছি কিন্তু ২০ হাজার টাকাও লিচু বিক্রি করতে পারিনি। তাই চিন্তা ভাবনা করেছি লিচু বাগান কেটে অনন্য বাগান করবো।
বৃহত্তর এই চট্টগ্রাম বেপক সম্ভাবনাময় অনচল। কৃষি অফিসার তথ্য মতে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে চায়না টু, থ্রি ও বোম্বে জাতের লিচু।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার, গুইমারা, খাগড়াছড়ি মো. আবদুল রাইম মজুমদার বলেন। বিগত দুই তিন বছর ধরে পার্বত্য অঞ্চলে শীত কম পরায় মাইটের আক্রমণ বেরে গেছে তাই লিচুর ফলন কম হচ্ছে। আর কৃষকরা সঠিক ভাবে পরিচর্জা ও সেজ ব্যবস্তা না থাকায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম হচ্ছে। আমরা কৃষকদেরকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি যাতে সঠিক ভাবে পরিচর্জা করে। যদি সঠিক ভাবে পরিচর্জা করে তাহলে কৃষকরা ভাল ফলন পাবে।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: মর্তুজ আলী বলেন। জেলায় এবছর ২ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। উপাদান লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন। কিন্তু খরা আর পচন্ড দাবদাহের কারণে লিচুর ফলন এবছর অর্জিত হবে না বলেন তিনি। তবে আগামীতে যেন লিচুর ফলন ভালো হয়, সে জন্য কৃষকদেরকে না পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন এমনটাই বলেন তিনি।
মো. মফিজুল ইসলাম
খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি








