অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) আওতায় জাপানকে ৯৮টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে বাংলাদেশ। বিপরীতে বাংলাদেশকে ১২০টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে জাপান। এতে বাংলাদেশের সেবাখাতে জাপানের ভালো বিনিয়োগ আসবে বলে প্রত্যাশা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে জাপানের সঙ্গে সই হওয়া ইপিএ চুক্তি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব বলেন, আগে যেখানে মাত্র পাঁচ তারকা হোটেল ও মোবাইল ফোনের দুটি সেবাখাত উন্মুক্ত ছিল, এখন সেখানে ৯৮টি সেবাখাতে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে জাপান বাংলাদেশকে ১২০টি সেবাখাত উন্মুক্ত করেছে। এতে জাপান থেকে বড় পরিসরে বিনিয়োগ আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এটি বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি। চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশ ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। জাপান বাংলাদেশের জন্য ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য উন্মুক্ত করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ধাপে ধাপে ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে আরও কিছু পণ্যে জাপানকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।
গার্মেন্টস খাতের বিষয়ে মাহবুবুর রহমান বলেন, এ চুক্তির পরও বাংলাদেশ আগের মতোই এক ধাপ মূল্য সংযোজন করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পোশাক রপ্তানি করতে পারবে। অর্থাৎ আমদানিকৃত কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানির সুযোগ অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, উন্নত কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এটি প্রথম ইপিএ এবং শর্তের দিক থেকে এটি একটি সুবিধাজনক চুক্তি। এতে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি জাপানের বিনিয়োগও বাড়বে।
বাণিজ্য সচিব জানান, জাপানের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনেই চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলেই এটি কার্যকর হবে। তবে বাংলাদেশ এখনো এলডিসিভুক্ত দেশ হওয়ায় এই সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে পাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বাজার প্রবেশাধিকারে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে, তা বিবেচনায় নিয়ে এ চুক্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ২১টি উপখাত নিয়ে সমঝোতা হয়েছে, যেখানে বড় একটি টিম একসঙ্গে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, বাণিজ্য উদারীকরণের সুফল পেতে হলে ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এতে দেশের ভোক্তারাও লাভবান হবেন। জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি, আর এত বড় অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারত যেখানে জাপানের সঙ্গে এমন চুক্তি করতে ১৫–২০ বছর সময় নিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যেই তা করতে পেরেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সোমবার রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শুল্ক চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে এবং মঙ্গলবার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা ইস্যুতে চলমান ধর্মঘট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে রমজানে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে নির্বাচিত সরকার বন্দর সচল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রদা/ডিও







