রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জন্য চারটি জাহাজ কেনার লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এ চুক্তি সম্পন্ন হয় বলে সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।
চুক্তির আওতায় শিগগিরই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বিএসসির চার জাহাজ ক্রয় প্রকল্প বাস্তবায়নে এ ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং চীন সরকারের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির মোট মূল্য ১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন আরএমবি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৪৮৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দুটি ক্রুড অয়েল ট্যাংকার, একটি মাদার ট্যাংকার এবং একটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার সংগ্রহ করা হবে। এসব জাহাজ বিএসসির অপরিশোধিত তেল ও বিভিন্ন পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির আওতায় চীন সরকার প্রকল্পটির জন্য ২ শতাংশ সুদে নমনীয় ঋণ দেবে। ঋণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২০ বছর।
বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ চুক্তি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তিনি বলেন, নতুন চারটি জাহাজ বাংলাদেশের নৌপরিবহন সক্ষমতা বাড়াবে, বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং সমুদ্রপথে দেশের স্বায়ত্তশাসন জোরদার করবে। তিনি আরও জানান, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিএসসির বহর সম্প্রসারণ ও আয় বৃদ্ধি কৌশলের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে মোট ২২টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১৫টি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে অনেকদূর এগিয়েছে। বাকি সাতটি জাহাজ ক্রয়ের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কাছে একটি প্রি-ডিপিপি জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএসসির জন্য পাঁচটি জাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রদা/ডিও







