দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণা এখন চরমে। প্রার্থীরা দিন-রাত এক করে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ব্যস্ত। মাইকিং, পোস্টার, সভা-সমাবেশ—সব মিলিয়ে নির্বাচনী মাঠ সরগরম। তবে বাস্তবতা হলো, নির্বাচনে শুধু আশ্বাস আর মধুর কথায় ভোট আদায় হয় না; এখানে অর্থ একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, মাঠে অর্থের প্রবাহ ততই চোখে পড়ছে। এই অর্থ কোথা থেকে আসে, কতটা ব্যয় হয়—তা স্পষ্ট নয়। যদিও নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় নির্ধারণ করে দিয়েছে, বাস্তবে সেই সীমা মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে।
আমাদের সমাজে বহুদিন ধরেই একটি কথা প্রচলিত—ভোটের মাঠে টাকা ওড়ে। জাতীয় নির্বাচন হোক কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন, অর্থের ভূমিকা বরাবরই দৃশ্যমান। দলীয় জনপ্রিয়তা বা সাংগঠনিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা জয়-পরাজয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। একসময় এই বাস্তবতাকে গ্রামীণ ভাষায় ভিন্নভাবে বলা হলেও, শহুরে পরিভাষায় একে বলা হয় অর্থ ও প্রভাবনির্ভর নির্বাচন।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে যত আলোচনা-সমালোচনাই থাকুক, ভোটের মাঠে অর্থের প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এটি অস্বস্তিকর হলেও বাস্তব সত্য। আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতি এখনো এই অসুস্থ চক্র থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ভোটারদের প্রভাবিত করতে যে অর্থ ব্যয় হয়, তা কি আদৌ সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছায়? অধিকাংশ ক্ষেত্রে উত্তর নেতিবাচক। এই অর্থের বড় অংশই শেষ পর্যন্ত আত্মসাৎ করেন প্রার্থীর আশপাশে থাকা মধ্যস্বত্বভোগী একটি গোষ্ঠী।
প্রদা/ডিও






