চট্টগ্রাম বন্দরে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
এর ফলে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে আমদানি-রফতানি পণ্য ওঠানামা, খালাস, ডেলিভারি ও পরিবহনসহ বন্দর কার্যক্রম পুরোদমে সচল হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে গতি ফিরেছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বৈঠক শেষে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। এর আগে রোববার বিকেলে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার কোনো চুক্তি করা হবে না। এ ঘোষণার পরই ধর্মঘট প্রত্যাহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
তবে শ্রমিক-কর্মচারীদের গ্রেফতার, মামলা, সাময়িক বরখাস্ত, বদলি ও দুদকের তদন্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চলমান থাকায় আন্দোলনকারী নেতারা প্রথমে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এতে বন্দরে সর্বাত্মক ধর্মঘটের কারণে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে গভীর রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর ও মোহাম্মদ ইব্রাহীম খোকন জানান, নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী বর্তমান সরকারের আমলে এনসিটি ইজারা চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ায় ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, গ্রেফতার, হয়রানিমূলক বদলি, বাসা বরাদ্দ বাতিল এবং সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে জাতীয় নির্বাচন ও রমজানের পণ্য খালাসের স্বার্থে ধর্মঘট ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
জাতীয় নির্বাচন ও রমজানের আগে এনসিটি ইস্যুতে সরকারের সিদ্ধান্ত এবং ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণায় চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
প্রদা/ডিও







