পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের জন্য ডেমরা পুলিশ লাইন্সে আটতলা একটি স্কুল নির্মাণে দেশের ২০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা করে অনুদান চেয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। এ অর্থ সংগ্রহের সিদ্ধান্তকে ঘিরে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে ব্যাংক খাতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিএবি ব্যাংকগুলোর কাছে সিএসআর তহবিল থেকে মোট ১০ কোটি টাকা অনুদান চেয়ে চিঠি পাঠায়। প্রস্তাবিত স্কুলটি পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকার শিশুদের জন্য নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে প্রকল্পটির জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ না থাকায় ব্যাংকগুলোর কাছ থেকেই অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক খাতের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্যোগটির উদ্দেশ্য ইতিবাচক হলেও ‘নির্দেশনাভিত্তিক সিএসআর’ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। অতীত অভিজ্ঞতায় এ ধরনের চাপমূলক সিএসআর সিদ্ধান্ত ব্যাংক ব্যবস্থাপনার জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে বলেও তারা মত দিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন—যেখানে আবাসিক প্রকল্পের অর্থায়ন অন্য উৎস থেকে করা হয়েছে, সেখানে স্কুল নির্মাণে কেন ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা তৈরি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থনীতিবিদরাও সিএসআর তহবিল ব্যবহারে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, সিএসআর মূলত দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও সামর্থ্যহীন জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় হওয়াই এর মৌলিক উদ্দেশ্য।
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের প্রত্যাশা পূরণে অবদান রাখার কারণে সিএসআর বিশ্বজুড়ে ‘ট্রিপল বটম লাইন ফ্রেমওয়ার্ক’ হিসেবে পরিচিত। অন্যভাবে বলা যায়, মানুষ, পৃথিবী ও মুনাফা—এই তিনটি ধারণাকে প্রাধান্য দিয়েই সিএসআরের বিকাশ।
প্রদা/ডিও







