আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা মোতায়েন ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী নির্বাচনটি ‘পারফেক্ট’ করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি বর্তমান নির্বাচনের পরিবেশ, রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ এবং সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই হাই-প্রোফাইল মিটিং শেষে যমুনা প্রাঙ্গনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শফিকুল আলম জানান, সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচন প্রস্তুতি অত্যন্ত সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো শৃঙ্খল। কেউ কারও বিরুদ্ধে কটু কথা বলছে না। কোনো অভদ্র আচরণ হচ্ছে না। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিবেচনায় এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হলো একটি ‘পারফেক্ট’ ভোট নিশ্চিত করা।’
প্রেস সচিব জানান, এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য ‘বডি-ওর্ন’ [শরীরে পরিহিত] ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। বৈঠকের সময় প্রধান উপদেষ্টা র্যান্ডমভাবে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং ক্যামেরার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
এছাড়া ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ পুরোপুরি চালু করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র নির্বাচনি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করবেন। কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম বা সহিংসতার ঘটনা ঘটলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে, ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
নির্বাচনি নিরাপত্তায় প্রায় ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন বলে জানান শফিকুল আলম। এর মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ জন সদস্য ইতোমধ্যে মোতায়েন হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর ১ লাখ ৫৭ হাজার এবং আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৬ জন সদস্য পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে কোস্ট গার্ড ও র্যাবকেও।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য পাঠানো ৪ লাখ ২২ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।
শফিকুল আলম বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, নারীরা পরিবারসহ উৎসবের আমেজে ভোট দিতে আসবেন। এই নির্বাচন যেন নিরাপদ, অংশগ্রহণমূলক ও স্মরণীয় হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’
নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা তথ্য জানাতে নির্বাচনকালীন বিশেষ হটলাইন নম্বর ৩৩৩৩৩ চালু করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
প্রদা/ডিও






