ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায়, মার্কিন বাজারে ভারতীয় টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানির শুল্ক হ্রাস পাওয়ায়—বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় ভারতের বস্ত্র বা টেক্সটাইলখাত বাড়তি সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছে ভারতের বস্ত্র মন্ত্রণালয়।
আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ভারতের বস্ত্র মন্ত্রণালয় জানায়, অন্তর্বর্তী কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় সব টেক্সটাইল পণ্য—অ্যাপারেল ও মেইড-আপসসহ—এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এর ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা এতদিন যে প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধার মুখে ছিলেন, তা দূর হবে এবং তারা বাংলাদেশ (২০%), চীন (৩০%), পাকিস্তান (১৯%) ও ভিয়েতনাম (২০%)—যেসব দেশের ওপর এখনো তুলনামূলক বেশি শুল্ক কার্যকর—তাদের চেয়ে ভালো অবস্থানে চলে যাবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “এই চুক্তির ফলে বাজারের গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন আসবে এবং বড় ক্রেতারা তাদের পণ্য সংগ্রহের কৌশল নতুন করে পর্যালোচনা করতে বাধ্য হবেন।”
ভারতের বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই অন্তর্বর্তী চুক্তি ভারতীয় টেক্সটাইল শিল্পকে মূল্য প্রতিযোগিতায় সহায়তা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে টেক্সটাইল খাতের মধ্যবর্তী উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি করে বৈচিত্র্য আনতে সাহায্য করবে।
মন্ত্রণালয় জানায়, এর ফলে ভারতে মূল্য সংযোজিত টেক্সটাইল উৎপাদন সহজ হবে এবং দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি কাঠামো আরও বৈচিত্র্যময় হবে। পাশাপাশি এই চুক্তি অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
ভারতের বস্ত্র মন্ত্রণালয় নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই অন্তর্বর্তী চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে টেক্সটাইল বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে “একটি বড় অনুঘটক” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ভারতীয় টেক্সটাইল রপ্তানির ক্ষেত্রে এই অন্তর্বর্তী কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের ১১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বৈশ্বিক টেক্সটাইল, পোশাক ও মেইড-আপস আমদানির বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় টেক্সটাইল পণ্যের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। সেখানে বার্ষিক প্রায় ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ অ্যাপারেল এবং ১৫ শতাংশ মেইড-আপস। মন্ত্রণালয়ের মতে, এটি ভারতীয় টেক্সটাইল খাতের জন্য একটি বড় সুযোগ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের টেক্সটাইল রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রার এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অবদান রাখবে। বাণিজ্য চুক্তি লক্ষ্য পূরণের প্রয়োজনীয় গতি জোগাবে বলে জানায় মন্ত্রণালয়।
এদিকে আলাদাভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ভারতের যে বাড়তি সুবিধা তৈরি হয়েছে, সে দিকেও ইঙ্গিত দেন। গোয়েল বলেন, “এটি আমাদের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা দেবে।”
তিনি জানান, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপের আওতায় ভারতের প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পারস্পরিক শুল্ক ছাড়াই প্রবেশের সুবিধা পাবে। এই চুক্তি আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ে স্বাক্ষরিত হতে পারে বলেও জানান তিনি।
গোয়েল বলেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় দেবে, তবে ভারতের নিজস্ব কৃষিখাতের জন্য সংবেদনশীল হওয়ায় দেশটির কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যবাজার মার্কিন রপ্তানি থেকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে কোটাভিত্তিক শুল্কছাড় দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ খাতের সংবেদনশীল পণ্যগুলো পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুধ, পনির, গম, চাল, ভুট্টা, সয়াবিন, পোলট্রি, ইথানল (জ্বালানি), তামাক, কিছু সবজি ও মাংসজাত পণ্যে কোনো শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে না।
ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে যেসব পণ্যে শুল্ক ছাড় দিচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে—ওয়াইন ও মদ, ড্রাইড ডিস্টিলার্স গ্রেইন, পশুখাদ্যের জন্য লাল সরগাম, গাছের বাদাম, সয়াবিন তেল, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, প্রসাধনী, অজৈব ও জৈব রাসায়নিক, কিছু চিকিৎসা যন্ত্র এবং কম্পিউটার–সংক্রান্ত পণ্য।
প্রদা/ডিও







