১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্যের নির্দেশনায় এ তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
গত বৃহস্পতিবার অফিস সময়ের পর ই-মেইলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে এই জরুরি বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে রোববার দুপুর ১২টার মধ্যে ঋণের আসল ও সুদের বকেয়া স্থিতি জানাতে বলা হয়েছে।
অবাক করার বিষয় হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশেষ উদ্যোগ সম্পর্কে খোদ গভর্নর আহসান এইচ মনসুর অন্ধকারে রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো তথ্য চাইলে তা নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নোট উপস্থাপন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমোদনের মাধ্যমে করা হয়। তবে এক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ না করে পর্ষদ সদস্য রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সরাসরি নির্দেশনায় তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক খাতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা এই প্রক্রিয়াকে অপেশাদার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, হুট করে এমন তথ্য চাওয়ার উদ্দেশ্য যদি ঋণ মওকুফ করা হয়, তবে তা ব্যাংকিং খাতের জন্য বিপদজনক হতে পারে। কারণ এসব টাকা মূলত আমানতকারীদের, যা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে মওকুফ করা কঠিন। এছাড়া কৃষকদের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করার প্রবণতা তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত প্রান্তিক কৃষকসমাজ কতটুকু উপকৃত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যাংকাররা। ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।
প্রদা/ডিও







