ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং প্রধান আসামি রাহুল ওরফে করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়সাল রুবেল আহমেদ (৩৩) আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে এই স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিআইডি দুই দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ডে নিয়ে রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর সে স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দিতে রাজি হলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি ও সিআইডির যৌথ অভিযানে রুবেল গ্রেফতার হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ ডিসেম্বর, যখন দেশজুড়ে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। ওই দিন দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল ও পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, রুবেলের এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মামলার মূল হোতাদের শনাক্ত করতে এবং হত্যার নেপথ্যের মোটিভ উন্মোচন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে এখন বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।
প্রদা/ডিও







