নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের হাতে হস্তান্তরের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) আরও ১২ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে।
গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি দাপ্তরিক আদেশের মাধ্যমে এই বদলির নির্দেশ দেয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী বদলি হওয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হলেন— মোহাম্মদ শফি উদ্দিন (সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট), রশিদুল ইসলাম (সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট), মো. হারুনুর ইসলাম (গেট টাইপিস্ট), মো. হুমায়ুন কবির (এস.এস. অপারেটর), মো. শফিকুল রহমান (সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট), মানিক মিত্র (জুনিয়র ড্রাইভার), আবদুল আজিজ মিয়া (উচ্চমান সহকারী, মাহবুবুর রহমান (গেট টাইপিস্ট), আনিসুর রহমান রুবেল (জুনিয়র ড্রাইভার), মো. রফিকুল ইসলাম (জুনিয়র ড্রাইভার), মো. বশির উদ্দিন (খালাসি) এবং মো. মাসুদ মিয়া (রাজমিস্ত্রি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বদলি হওয়া এই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অধিকাংশ ইতিপূর্বে বন্দরের সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল শাখায় কর্মরত ছিলেন।
দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে বর্তমানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিদেশি কোম্পানির হাতে টার্মিনাল হস্তান্তর হলে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি চাকরি হারানোর শঙ্কায় বন্দর কর্মচারীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালন করে আসছেন।
এর আগে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি), বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে চার কর্মচারীকে বদলি করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে অফিস চলাকালীন কোনো ধরনের আন্দোলনে অংশ নিলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি রিট আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে দেন। এর ফলে ইজারা চুক্তি কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের সামনে আর কোনো আইনি বাধা নেই। আদালতের রায়ের পর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানো সহ্য করা করা হবে না। তবে এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই গত দুই দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি সোমবারও (২ ফেব্রুয়ারি) তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সমুদ্রপথের বাণিজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দেশের ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চললে পণ্য পরিবহন, রপ্তানি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্রদা/ডিও







