সরকারি কলেজের শিক্ষকরা বদলি হতে ৮ লাখ টাকা করে ঘুষ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘সরকারি কলেজের শিক্ষকরা ৮ লাখ টাকা করে ঘুষ দিয়ে বদলি হচ্ছেন। আমি যখন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম, তখন আমার রুমের সামনে শত শত লোক এসে ভিড় করত।’
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ম্যাক্রোইকোনমিক স্ট্যাবালিটি অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ফর নিউ গভর্নমেন্ট’- শীর্ষক সেমিনার ও স্টুডেন্ট স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে বড় বড় দুর্নীতি কমেছে। কিন্তু অন্য দুর্নীতি আছে। মামলা বাণিজ্য আছে, বদলি বাণিজ্য আছে। গোয়েন্দা সংস্থাকে বলেছি, কিন্তু তারা এসব বের করতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শত শত তদবির হয়। আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলেই কাজ হতো, মন্ত্রণালয়ে আসতে হতো না। এখন সবাই বলে, একটা সুযোগ এসেছে, তাই মন্ত্রণালয়ে চলে আসেন। আমার রুমের সামনে অনেক লোক আসত। আমি তাদের ডিঙিয়ে রুমে যেতাম।’
প্রকল্পসংক্রান্ত সমস্যার কথা উল্লেখ করে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘নতুন নীতিমালায় প্রকল্প বাস্তবায়নে উপকারভোগীদের সম্পৃক্ত করার পর তারা ঠিকাদারদের প্রশ্ন করে যে, আপনার ব্যবহৃত ইট-সুড়কি তো ভালো না। ফলে এখন প্রকল্পগুলোতে কোনো কর্মকর্তা আর পিডি (প্রকল্প পরিচালক) হতে চান না।’
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা অতীতের এ ধরনের যেকোনো সরকারের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। কারণ এটি একটি নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত হয়েছে।
১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘সে সময় নীতিনির্ধারণ ছিল তুলনামূলকভাবে সহজ।’
তিনি বলেন, ‘তখন কাজটা অনেক সহজ ছিল। এবার সত্যি বলতে আমি এই দায়িত্ব নিতে চাইনি, কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার কাজটা অনেক বেশি জটিল।’
পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকারের প্রকৃতি স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করাও তার কাছে কখনো কখনো কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এনজিওর মতো কাজ করছি না, আবার পুরোপুরি স্বাভাবিক বা রাজনৈতিক সরকার হিসেবেও কাজ করছি না। আমি নিজেও এখনও বোঝার চেষ্টা করছি, এটি ঠিক কী ধরনের সরকার।’
তিনি জানান, অত্যন্ত অস্থিতিশীল একটি সময়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় এর ম্যান্ডেট ও চরিত্র স্বভাবতই জটিল।
তিনি বলেন, ‘একদিকে অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত প্রত্যাশাগুলো বহন করছে; অন্যদিকে এর একটি আংশিক সাংবিধানিক ভিত্তিও রয়েছে।’
সব মিলিয়ে, এটি এমন একটি সরকারব্যবস্থা যা বাংলাদেশ আগে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি বলে মন্তব্য করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ব্র্যাক ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ আবদুল মোমেন, ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম কামাল উদ্দিন জাসিম এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সামসুল ইসলাম।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
প্রদা/ডিও






