উচ্চ আদালতের নির্দেশে আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী–শিল্পপতিদের সংগঠন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)-এর নির্বাচন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে বিষয়টি নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত নির্দেশ দেন, আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালে চট্টগ্রাম চেম্বার সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। ফলে নির্ধারিত ৪ এপ্রিল নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ থাকছে না।
এর আগে প্রায় পাঁচ মাস স্থগিত থাকার পর গত ৩ মার্চ চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন ঘোষণায় আগামী ৪ এপ্রিল নগরের আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রাপ্ত আইনি মতামতের ভিত্তিতে সাধারণ ও সহযোগী শ্রেণি থেকে মোট ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। তবে সর্বশেষ আদালতের নির্দেশনার কারণে সেই নির্বাচন আর হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম চেম্বারের কাঠামো অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের ভোটে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন এবং সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। পাশাপাশি টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে আরও ৬ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে মোট ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। পরে এই পরিচালকদের মধ্য থেকেই সভাপতি ও দুইজন সহসভাপতি নির্বাচিত হন। চলতি নির্বাচনে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ছয়জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনায় ছিলেন।
চেম্বার সূত্রে জানা যায়, শুরুতে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের আটটি সংগঠনকে তালিকা থেকে বাদ দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। পরে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় ওই আট সংগঠনকে নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি আরও দুই ব্যবসায়ীর সঙ্গে এফবিসিসিআইতেও অভিযোগ দায়ের করেন।
রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট প্রাথমিকভাবে দুই শ্রেণিকে বাদ রেখে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর জারি করা মন্ত্রণালয়ের চিঠির ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। পরে আপিলের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর আদালত দুই সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এরপর ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ছয়টি টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের প্রতিনিধিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন। তবে সেই আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করেন রিটকারী মোহাম্মদ বেলাল। সেই আপিলের শুনানির পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের নতুন নির্দেশনা আসে। যদিও এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, চেম্বার নির্বাচন আয়োজনে আইনি বাধা নেই।
রিটকারী মোহাম্মদ বেলালের পক্ষে আইনজীবী আশফাকুর রহমান জানান, আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। পাশাপাশি হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশকে আপাতত বিবেচনায় না নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আদালত মৌখিকভাবে স্পষ্ট করেছেন যে, ৪ এপ্রিল নির্ধারিত নির্বাচনের আয়োজন করা যাবে না।






