আগামী ৫ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ১০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত এবং রাশিয়া। গত বছর দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ক একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেন ১০ হাজার কোটি বা ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত বছর স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ চুক্তির বরাত দিয়ে রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঐতিহাসিক লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার জানান, গত বছর ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাতে পূর্ণ সম্মতি প্রদান করেন। এরপরই ২০৩০ সালকে লক্ষ্যমাত্রা ধরে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম এই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বেগবান করতে ইতোমধ্যে মুক্ত বাণিজ্য বা ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের মতো নতুন উপাদানগুলো যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিনয় কুমার বিশ্বাস করেন, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। যদিও এই বাণিজ্যের একটি সিংহভাগ দখল করে আছে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল, তবে এখন অন্যান্য খাতের প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লেনদেন সহজ করতে গত দুই বছর ধরে ডলারের বিকল্প হিসেবে রুপি ও রুবল ব্যবহারের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে সাক্ষাৎকারে জানানো হয়।
গত মাসে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দুই দেশের মিত্রতাকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান এই বাণিজ্যিক রোডম্যাপ বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের গুরুত্বকে আরও একবার স্পষ্ট করে তুলল।
প্রদাা/ডিও







