চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ভূ‑সম্পত্তি দপ্তর থেকে মধ্যরাতে অজ্ঞাতপরিচয় চোরেরা প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় রেল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চুরি ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাতের দিকে সংঘটিত হয়। দপ্তরের সহকারী কর্মকর্তা আকবর হোসেন মজুমদার খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চোরেরা দপ্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই প্রবেশ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নিয়ে যায়। এতে আইপিএস ইউনিট, আইপিএস ব্যাটারি, ড্রিল মেশিন, গ্রাইন্ডিং মেশিন এবং ওয়েল্ডিং মেশিনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি হয়। এই যন্ত্রপাতিগুলো মূলত রেলভূমি ব্যবস্থাপনা ও অফিস কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেল নিরাপত্তা বাহিনী থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়তলী এলাকায় নিয়মিত মানুষের চলাচল থাকায় এবং রেলভূমি অফিসটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর হওয়ায় এটি চুরি হলে নিরাপত্তার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেকেই বলছেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম রেল ভবনের বাইরে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত।
চুরি সংক্রান্ত তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ ও রেল নিরাপত্তা বাহিনী এখন সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা, গার্ডদের দায়িত্ব পালন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য খামতি যাচাই করছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, চুরি সংগঠিত পরিকল্পনার অংশ কি না তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। পুলিশ ইতিমধ্যেই জিডি অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমন ঘটনায় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সুরক্ষায় আরও জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, বিশেষ করে যখন দপ্তরের সরঞ্জাম জনসম্মুখে ব্যবহার হয়। খুলশী থানার কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত চলছে এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য সকল প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চুরি সংক্রান্ত এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং সরকারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা আরও শক্ত করার দাবি তুলেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর চুরি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে।






