শীত মৌসুম এলেই রাজধানীতে গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাসাবাড়িতে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় নিয়মিত রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলে না বা খুবই দুর্বল থাকে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকাবাসী।
এ অবস্থায় এলপি গ্যাসের সংকট ও দাম বৃদ্ধিও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। মগবাজার, হাতিরপুল, সেন্ট্রাল রোড, কাঁঠালবাগনসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। রান্না বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বিকল্প জ্বালানির আশ্রয় নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করেও রান্নার সুবিধা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে বাড়তি দামে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এর ওপর হঠাৎ সিলিন্ডারের সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে অনেকেই খাবার সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বিপাকে পড়েছেন।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে যানবাহন খাতেও। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সিএনজি নিতে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। চালকরা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সিলিন্ডার পুরোপুরি ভর্তি হচ্ছে না। এতে কাজের সময় বেড়ে যাচ্ছে এবং দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে।
নগরবাসীর এই দুর্ভোগের বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী সাইদুল হাসান বলেন, অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রয়োজনীয় খাতে গ্যাস সরবরাহের পর আবাসিক এলাকায় গ্যাস দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, ঢাকায় প্রতিদিন ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও অবৈধ সংযোগের কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে। সব বাড়িতে নজরদারি সম্ভব নয়; অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হলেও কিছুদিন পর আবার তা চালু হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট কাটাতে যৌক্তিক দামে এলপি গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো জরুরি। আইইইএফএর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, প্রতি বছর জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। তাই সরবরাহ সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপচয় রোধে আধুনিক ও দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এদিকে এলপি গ্যাসের দাম নিয়েও বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়ানো হলেও বাস্তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রদা/ডিও







