বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও মিশর। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় (স্থানীয় সময় দুপুর ১টা) শুরু হয় ম্যাচটি।
খেলার ১৪তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে মিশরকে লিড এনে দেন ইয়াসের ইব্রাহিম। এরপর ৬৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোস্তফা জিকো। তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি মিশর। ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও ৮৩ মিনিটে লিওনেল মেসির গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে দারুন এক হেডে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন এনজো ফার্নান্দেজ।
প্রথমার্ধে শর্ট কর্নার থেকে বল পেয়ে চমৎকারভাবে বক্সে ক্রস বাড়ান মারওয়ান আত্তিয়া। নিখুঁত টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে ইয়াসের ইব্রাহিম দারুন এক হেডে বল পাঠিয়ে দেন আর্জেন্টিনার জালে।
ম্যাচের ৩১তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পায় আলবিসেলেস্তেরা। মিসরের হাইসেম হাসান বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে। রেফারি ফ্রঁসোয়া ল্যতেক্সিয়ে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন।
সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। শট নিতে এসেছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কিন্তু ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে নেওয়া মেসির শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দিলেন মিসরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবের।
ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে মিসরের বক্সে ফাঁকায় বল পান হুলিয়ান আলভারেজ। নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে গোলপোস্টের মাঝ বরাবর নিচু শটও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে সেই শট আটকে দেন শোবের। সমতায় ফিরতে মরিয়া লিওনেও স্কলোনির শিষ্যরা বিরতির আগে আর গোলের দেখা পাননি। ফলে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়েন মেসিরা।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পর আবারও এগিয়ে যায় মিশর। তবে গোলের আগে ফাউলের শিকার হন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত মিসরের গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।
এর কিছুক্ষণ পর ৬৭তম মিনিটে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোস্তফা জিকো।
৭৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ক্রস ভাসিয়ে দেন লিওনেল মেসি। সেই বলের দারুণ ব্যবহার করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। কোনো বাধা ছাড়াই জোরালো হেডে বল পাঠিয়ে দেন জালে। এর চার মিনিট পর মেসি জাদুতে সমতায় ফেরে আলবিসেলেস্তেরা।
কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লড়াইয়ের আগে শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর শেষ ষোলো নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা এবার আরও ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে মাঠে নামছে। রক্ষণ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণ- তিন বিভাগেই পরিবর্তন এনে দলকে নতুনভাবে সাজিয়েছেন স্কালোনি।
রক্ষণভাগে ফিরছেন অভিজ্ঞ লেফটব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকো। ইনজুরির কারণে আগের কয়েকটি ম্যাচে তার জায়গায় খেলেছিলেন ফাকুন্দো মেদিনা। তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে শেষ দিকে শারীরিক সমস্যায় পড়ায় এবার আবারও প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন তালিয়াফিকো।
আক্রমণভাগেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। টুর্নামেন্টের প্রথম চার ম্যাচে শুরু থেকেই খেলেছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। জর্ডানের বিপক্ষে গোল করলেও শেষ ষোলোর আগের ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার।
ফলে তার জায়গায় সুযোগ পাচ্ছেন হুলিয়ান আলভারেজ। বাম গোড়ালির ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের শুরুর কয়েকটি ম্যাচে খেলতে না পারলেও এখন পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরেছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনটি এসেছে মাঝমাঠে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল। সেই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দারুণ ছাপ রেখেছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তার পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে এবার প্রথম একাদশে জায়গা পেয়েছেন তিনি।

পারেদেস দলে ফেরায় মিডফিল্ডের বিন্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। তিনি ডিপ-লাইং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় খেলবেন। এতদিন এই দায়িত্ব পালন করা আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবার আরও সামনে উঠে এনজো ফার্নান্দেজের সঙ্গে আক্রমণভাগে সংযোগ তৈরির ভূমিকা পালন করবেন। এই পরিবর্তনের কারণে একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন থিয়াগো আলমাদা।
আর্জেন্টিনার একাদশ
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক); নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।







