দেশের বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের, বিশেষ করে রপ্তানিমুখী বন্ধ ও মূলধন সংকটে ভুগতে থাকা শিল্পকারখানাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে নবগঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার আবর্তনশীল (রিভলভিং) প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমের তহবিল ব্যবহারে তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-৩ (বিআরপিডি-৩) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার পাঠিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার বিস্তারিত রূপরেখা জানিয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, ‘ক্লোজড ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সার্ভিস সেক্টর ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম’ (বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়তা প্রাক-অর্থায়ন তহবিল) শীর্ষক এই তিন বছর মেয়াদি আবর্তনশীল তহবিলের অর্থের উৎস হবে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য।
এই স্কিমে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই বিআরপিডি-৩-এর সঙ্গে একটি ‘অংশগ্রহণ চুক্তি’ স্বাক্ষর করতে হবে। নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন পাওয়ার পর, ব্যাংকগুলো চূড়ান্ত গ্রাহকদের (ঋণগ্রহীতা) ঋণ বিতরণের আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ নির্দিষ্ট ফরমেটে এই প্রাক-অর্থায়ন সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক শর্ত দিয়েছে, যেসব ঋণগ্রহীতা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য পুনঃঅর্থায়ন (রি-ফাইন্যান্স) বা প্রাক-অর্থায়ন (প্রি-ফাইন্যান্স) স্কিম থেকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বা চলতি মূলধন সুবিধা নিচ্ছেন, নতুন করে আবেদনের আগে তাদের প্রকৃত প্রয়োজনের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতি রোধে, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর জন্য সাধারণ নথিপত্রের পাশাপাশি আবেদনকারীদের কাছ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ও প্রতিবেদন সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর মধ্যে রয়েছে—ঋণগ্রহীতার পক্ষ থেকে দেওয়া একটি লিখিত ঘোষণা, যেখানে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা কখনোই অর্থ পাচার, জালিয়াতি, তহবিলের ভিন্ন খাতে ব্যবহার বা ঋণের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না; গ্রাহকের উৎপাদন বা সেবা প্রদানের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি সনদপত্র; সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও রাজস্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন; এবং প্রতি প্রান্তিকে (তিন মাস পরপর) ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে সরজমিনে কারখানা পরিদর্শনের অঙ্গীকার ও পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা।
প্রতিবেদন এবং কমপ্লায়েন্স
নীতিমালা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতি প্রান্তিক (কোয়ার্টার) শেষ হওয়ার পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের একটি ত্রৈমাসিক বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হবে।






