চট্টগ্রামের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে চিনির বাজার। ব্যবসায়ীদের একাংশের সিন্ডিকেটের কারণে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মন (৩৭.৩২ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি মন চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ টাকায়, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৩ হাজার ৪০০ টাকার নিচে। সরবরাহ সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তাকে কারণ হিসেবে দেখানো হলেও ভোক্তাদের অভিযোগ- এটি মূলত কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর কৌশল।
পাইকারি বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কেজিপ্রতি চিনি ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ভোক্তাদের দাবি, বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। ফলে কিছুদিন পরপরই নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়িক প্রথার মধ্যেও রয়েছে কিছু অস্বচ্ছতা। বিশেষ করে ‘ডেলিভারি অর্ডার’ বা ডিও স্লিপের মাধ্যমে পণ্য হাতে না পেয়েও আগাম বেচাকেনা করা হয়। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে বাজারদর বাড়লে সরবরাহ বিলম্বিত করে আরও বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করা হয়।
চিনির পাশাপাশি নগরীর সবজির বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৯০ টাকার ওপরে উঠেছে। বেগুন, পটোল, শিম, বরবটি, করলা—সব ধরনের সবজিতেই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমি প্রভাব ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।
অন্যদিকে কিছু পণ্যে আংশিক স্বস্তি রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে। সোনালি মুরগির দামও আগের তুলনায় কমেছে। তবে ডিমের দাম আবার বেড়েছে। মাছের বাজারে দাম ওঠানামা করছে—রুই, পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামে কিছুটা কমতি দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে বাজার স্থিতিশীল নয়।
সার্বিক পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ভোক্তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।







