জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ক্ষুদ্র আমানতকারীদের ওপর করের বোঝা লাঘব করার লক্ষ্যে বার্ষিক ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক ছাড়ের সীমা বর্তমান ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা করছে।
বর্তমানে, ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকার আমানতের ওপর নামমাত্র ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ লাখ হিসাবধারী ৩-৫ লাখ টাকার আমানত রাখেন।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এই ছাড় কার্যকর হলে আমানতকারীরা নতুন এই সুবিধার আওতায় উপকৃত হবেন, যদিও সরকারের প্রায় ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দিচ্ছেন যে ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপ করা অযৌক্তিক। আমানতের ওপর অর্জিত সুদ ইতিমধ্যেই আয়করের আওতাধীন এবং ব্যাংকগুলো পরিষেবা চার্জের ওপর ভ্যাট আরোপ করে, যা অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
গত বুধবার প্রাক-বাজেট আলোচনা চলাকালে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
জানা গেছে, এনবিআর কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সরকার অনুমোদন দিলে এটি জুনে নির্ধারিত বাজেটে পেশ করা হতে পারে।
এনবিআর-এর কাস্টমস পলিসি উইং-এর সাবেক সদস্য মো. লুফতর রহমান এই আবগারি শুল্ককে অপ্রয়োজনীয় আখ্যা দিয়ে এর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “একই অ্যাকাউন্টের সুদের ওপর আয়কর আরোপ করা হয় এবং ব্যাংকগুলো সার্ভিস চার্জের ওপর ভ্যাট সংগ্রহ করে। এর ওপর অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক আদায়ের কোনো অর্থ হয় না।”
সরকার চলতি বছর আবগারি শুল্ক থেকে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বছরের যেকোনো সময়ে একটি অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া সর্বোচ্চ ব্যালেন্সের ভিত্তিতে শুল্ক গণনা করা হয়।
বর্তমানে, ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক আমানত আবগারি শুল্কমুক্ত। ৩,০১,০০০ থেকে ৫ লক্ষ টাকার আমানতের উপর ১৫০ টাকা এবং ৫,০১,০০০ থেকে ১০ লক্ষ টাকার আমানতের উপর ৫০০ টাকা শুল্ক ধার্য করা হয়।
১০,০১,০০০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার আমানতের উপর ৩,০০০ টাকা এবং ৫০,০১,০০০ থেকে ১ কোটি টাকার আমানতের উপর ৫,০০০ টাকা শুল্ক ধার্য করা হয়। ১,০১,০০,০০০ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে শুল্ক ১০,০০০ টাকা এবং ২,০১,০০,০০০ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকার মধ্যে আমানতের ক্ষেত্রে তা বেড়ে ২০,০০০ টাকা হয়। ৫ কোটি টাকার বেশি যেকোনো আমানতের উপর ৫০,০০০ টাকা আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য।







