রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)-এর ব্যাগিং কন্ট্রাক্টর নিয়োগ টেন্ডারকে ঘিরে অনিয়ম, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দেড় কোটি টাকার কাজ প্রায় ৮০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
রোববার টেন্ডার দাখিলের শেষ দিনে সিইউএফএলের প্রশাসনিক ভবনে টেন্ডার জমা দেওয়া নিয়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো কারখানা এলাকায়।
সূত্র জানায়, আগামী এক বছরের জন্য ইউরিয়া সার ব্যাগিং কার্যক্রম পরিচালনায় গত ৩ মে টেন্ডার আহ্বান করে সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ। প্রথমে ১৮ মে পর্যন্ত সময়সীমা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ২৪ মে করা হয়। মোট ৮টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার সিডিউল ক্রয় করলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার জমা দিতে সক্ষম হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বাকি ৬টি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার দাখিল করতে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে শাহ মোহছেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজ ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আনোয়ারা ট্রান্সপোর্ট ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার দরপত্র জমা দেয়।
বঞ্চিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে প্রতিযোগিতামূলক দর ঠেকিয়ে বাড়তি মূল্যে কাজ দেওয়ার পথ তৈরি করেছে। তাদের দাবি, সব প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারলে প্রায় দেড় কোটি টাকার মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল।
নুর ট্রেডার্স, ব্রাদার্স কর্পোরেশন ও আর এ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করে বলেন, টেন্ডার দাখিল করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং কয়েকজনের ওপর হামলাও চালানো হয়েছে। তারা দাবি করেন, কারখানার দুই শীর্ষ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে।
তারা আরও বলেন, বর্তমানে সারা দেশে সরকারি টেন্ডার ই-জিপি পদ্ধতিতে হলেও সিইউএফএলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টেন্ডার গ্রহণ করা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে টেন্ডার আইনগত বৈধতাও হারিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিইউএফএল দেশের ইউরিয়া সার উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারখানা। এখানে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া ও ৬০০ টন অ্যামোনিয়া উৎপাদিত হয়। উৎপাদিত সার বস্তাবন্দি ও সেলাইয়ের কাজের জন্য প্রতিবছর বেসরকারি ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়।
এদিকে টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কর্ণফুলী থানার ডিউটি অফিসার জানান, সিইউএফএলে টেন্ডার নিয়ে গোলমালের খবর পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি এবং কোনো মামলাও হয়নি।






