ঈদের ছুটি শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৩ কর্মদিবস। তবে চট্টগ্রামে বেশ কিছু গার্মেন্টসসহ শিল্প কারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের এখনও সুরাহা হয়নি। বেতন-বোনাস বকেয়া থাকায় অন্তত ৫০টি শিল্প কারখানা প্রশাসনের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য ২৮৭টি শিল্প কারখানায় বেতন এবং ৪১৩টিতে বোনাস অপরিশোধিত রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। তবে সরকারের আড়াই হাজার কোটি টাকার নগদ ইনসেনটিভের পাশাপাশি ঋণ সহায়তা পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে গার্মেন্টস সেক্টরে।
ঈদের আগে আবারও আলোচনা চট্টগ্রামের পোশাক কারখানা। শিল্প পুলিশের তথ্যমতে, নগরীর ছোট-বড় ১ হাজার ৬৭৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮৭টি কারখানার শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারির বেতন এবং ৪১৩টি কারখানায় ঈদের বোনাস পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্প পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘শেষ কর্মদিবসে যদি বোনাস দেয়ার তারিখ থাকে এবং ওইদিন যদি কোনো গার্মেন্টস মালিক সেটা দিতে না পারে, তখন কিন্তু মালিককে পাওয়া যায় না। আর শ্রমিকরা তখন রাস্তা অবরোধ করে। ফলে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই শেষ কর্মদিবসে বোনাস দেয়া যাবে না।’
গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত চট্টগ্রামের ৩৪২টি গার্মেন্টসের মধ্যে ৩০২টি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করলেও ঈদের বোনাস দিতে পেরেছে ১৮৭টি প্রতিষ্ঠান। সে অনুযায়ী এখনও ৪০টি কারখানার শ্রমিকদের বেতন এবং ১৫৫টির বোনাস বকেয়া রয়ে গেছে। তবে ঈদের বন্ধ শুরু হওয়ার আগেই বকেয়া বেতন-বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছেন মালিকরা।
প্রতি বছরই ঈদের আগে বকেয়া বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হলেও এবার অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে গার্মেন্টস মালিকরা। বিশেষ করে সরকারের কাছ থেকে গার্মেন্টস সেক্টরের আড়াই হাজার কোটি টাকার নগদ প্রণোদনার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী সহজ শর্তের ঋণ ছাড় হয়েছে কয়েকদিন আগেই। ব্যাংকগুলো জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত টাকা পরিশোধে সক্ষম হলে চলতি বছরের ঈদ মৌসুম সুন্দরভাবে কেটে যাওয়ার আশা বিজিএমইএর।
বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চাহিদা অনুযায়ী অর্থ পেয়েছি। এবার আশাকরি জটিলতা তৈরি হবে না। ব্যাংক থেকে সরাসরি শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাচ্ছে।’
চট্টগ্রামের তিনটি ইপিজেডের বাইরে গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প কারখানায় শ্রমিক রয়েছে অন্তত ১২ লাখ। আর ইপিজেডে শ্রমিকের সংখ্যা ৩ লাখের বেশি।







