চট্টগ্রামে এবার কোরবানিতে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৮১টি পশুর চাহিদা থাকলেও স্থানীয় খামারিদের কাছে মজুত রয়েছে মাত্র ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৫ হাজার পশুর ঘাটতি রয়েছে। তবে গত বছর কোরবানিতে গবাদিপশুর চাহিদা ছিল আট লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টি। সে হিসেবে এবার চট্টগ্রামে পশুর চাহিদা কমেছে ৭৭ হাজার ৫৮৮টি। একই সঙ্গে চলতি বছরের স্থানীয়ভাবে পশু উৎপাদন গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে গত দেড় বছরে চট্টগ্রামে পাঁচ শতাধিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে এবার পশু উৎপাদন কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, পশুর উৎপাদন কমলেও চট্টগ্রামে কোরবানিতে পশুর কোনও ঘাটতি হবে না। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের পশুর হাটের পাশাপাশি বিভিন্ন খামার, এমনকি রাস্তা ও অলিগলিতেও গরু-ছাগল ওঠা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে ট্রাকে পশু আসছে। যা দিয়ে স্থানীয় চাহিদা মিটবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্র জানিয়েছে, এ বছর চট্টগ্রাম মহানগরী এবং ১৪টি উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। ওই হিসেবে এবার স্থানীয় উৎপাদনের বিপরীতে ৩৫ হাজার ৫২০টি গবাদিপশুর ঘাটতি রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এ বছর চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলায় স্থানীয়ভাবে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু পালন করা হয়েছে। গত বছর এর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮২টি। এক বছরের ব্যবধানে স্থানীয় উৎপাদন কমেছে ৭৭ হাজার ৭৩১টি।
এ বছর স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্ট গরুর সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, যা গত বছর ছিল ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮১৩। ছাগল এক লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, যা গত বছর ছিল দুই লাখ ৫১ হাজার ৭৪। মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি, যা গত বছর ছিল ৬৪ হাজার ১৬৩। ভেড়ার সংখ্যা কমে ৪১ হাজার ৪২৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা গত বছর ছিল ৫৫ হাজার ৬৯৭।
এর আগে চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে গবাদি পশুর উৎপাদন ছিল ২০২৪ সালে ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি, ২০২৩ সালে ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি, ২০২২ সালে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫০১টি, ২০২১ সালে ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৪টি, ২০২০ সালে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ২২টি ও ২০১৯ সালে স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছিল ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি গবাদিপশু।
দেড় বছরে পাঁচ শতাধিক খামার
জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার ৫০০টি খামার ছিল। তবে গত এক থেকে দেড় বছরে পাঁচ শতাধিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগ সংকট এবং পশুপালনের ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নগরের স্থায়ী-অস্থায়ী হাটে আসছে পশু
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবার তিনটি স্থায়ী ও তিনটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়েছে। স্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে রয়েছে- সাগরিকা, মুরাদপুরের বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় পশুর হাট। পাশাপাশি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী, মুসলিমাবাদ মাঠ ও ওয়াজেদিয়া হাট। এসব বাজারেও কোরবানির পশুর বেচাকেনা হবে। হাটগুলোতে ইতিমধ্যে ইজারাদাররা মাঠ সাজানোসহ অন্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে এসব হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পশু আসতে শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, চট্টগ্রামে এবার স্থানীয়ভাবে যে পশু উৎপাদন যা হয়েছে তাতে আমাদের ৩৫ হাজার ৫২০টি গরু, মহিষ ও ছাগল ভেড়ার ঘাটতি আছে। তবে এটি কোনও ব্যাপার নয়। যে পশু মজুত আছে সেটা চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য যথেষ্ট। যেটুকু ঘাটতি আছে সেটা পূরণে তিন পার্বত্য জেলা ও কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরের জেলাগুলো থেকে পশু আসবে। ফলে শেষ পর্যন্ত পশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় গত দেড় বছরে ৩০০ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। গো–খাদ্যের দাম বাড়তিসহ নানা সমস্যার কারণে এসব খামার বন্ধ হয়েছে। তবে কোরবানির পশুর কোনও ঘাটতি হবে না।







