ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে চিনির বাজার। ব্যবসায়ীরা নতুন করে দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে ভারত থেকে চিনি রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তকে সামনে আনলেও ভোক্তাদের অভিযোগ, এটি মূলত বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের পুরনো কৌশল।
এর আগে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে কয়েক দফা চিনির দাম বাড়ানো হয়েছিল। অথচ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চিনির আমদানি-রপ্তানি খুবই সীমিত। এখন ভারতের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি মণ (৩৭.৩২ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ টাকা। বর্তমানে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬১৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল প্রায় ৩ হাজার ৫৫০ টাকা।
ভোক্তাদের দাবি, বর্তমানে বাজারে থাকা চিনি আগেই আমদানি করা হয়েছে। ফলে ভারতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই দাম বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমলে সক্রিয় থাকা চিনির মিলভিত্তিক সিন্ডিকেট আবারও বাজার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর একসময় চিনির দাম ১০০ টাকার নিচেও নেমে আসে। তখন অনেক ছোট আমদানিকারক বাজারে প্রবেশ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেশীয় মিল মালিকরা আমদানি মূল্যের চেয়েও কম দামে চিনি বিক্রি করে ছোট ব্যবসায়ীদের লোকসানে ফেলেন। এতে অনেকেই বাজার থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। এখন বড় ব্যবসায়ীরা আবারও বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে ‘ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ’ বাণিজ্যের কারণেও কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। পণ্য হাতে পাওয়ার আগেই ডিও কেনাবেচা হয়। বাজারদর বাড়লে কোম্পানিগুলো অনেক সময় পণ্য সরবরাহে গড়িমসি করে। আবার প্রকৃত মজুতের চেয়ে বেশি ডিও বিক্রির ঘটনাও ঘটে। ফলে বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
তবে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, চিনিসহ সব ভোগ্যপণ্যের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করে।
এদিকে নিজ দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভারত সরকার আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের চিনি রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বৈদেশিক বাণিজ্য মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে গত বুধবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।







