শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বেশিরভাগ পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করার রায় দিয়েছে। এ রায়ের প্রভাব মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সময় নেওয়া উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের এই আদেশের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা এই পরামর্শ দেন।
বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এই শুল্কগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিও আইনি ভিত্তি হারাবে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন ট্যারিফ অবৈধ ঘোষণা করলে বাংলাদেশ যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সেটাও অবৈধ হয়ে যাবে। ফলে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা আর আমাদের মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।’
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট-এর (আইইইপিএ) আওতায়। তবে মার্কিন আদালত রায় দিয়েছে, এই আইন পরিধি, মাত্রা ও মেয়াদের দিক থেকে সীমাহীন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেয় না।
হোয়াইট হাউস ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট-এর (আইইইপিএ) বরাত দিয়ে দাবি করেছিল, এই আইন প্রেসিডেন্টকে জরুরি অবস্থায় বাণিজ্য ‘নিয়ন্ত্রণের’ ক্ষমতা দেয়।
কিন্তু এ পদক্ষেপের ফলে দেশে-বিদেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে হুট করে বাড়তি করের মুখে পড়েছিল, তারা প্রতিবাদ জানায়। এ শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে বলেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
গত বছর আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রতিবাদকারী অঙ্গরাজ্য ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনজীবীরা বলেন, ট্রাম্প শুল্কারোপের জন্য যে আইন ব্যবহার করেছেন, সেখানে ‘শুল্ক (ট্যারিফ)’ শব্দটির কোনো উল্লেখই নেই।
তারা বলেন, কংগ্রেস তাদের কর আদায়ের ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়নি। এমনকি বিদ্যমান অন্যান্য বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক বিধিগুলোকে ‘বাতিল করার জন্য প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন ক্ষমতা’ দেওয়ার উদ্দেশ্যও কংগ্রেসের ছিল না।
রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার মতামতে এই যুক্তির পক্ষেই অবস্থান নেন।
বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, যেহেতু শুল্ক আরোপের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত আইনটি আদালত সীমিত ব্যাখ্যায় দেখেছেন, সে ক্ষেত্রে ওই প্রেক্ষাপটে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিও আইনি ভিত্তি হারাতে পারে। তবে চুক্তিটি এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন (র্যাটিফাই) না করায় এটি কার্যকর হয়নি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, তিনি ওভাল অফিসে বসে এই নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। তিনি আরও জানান, এই আদেশ ‘প্রায় তাৎক্ষণিকভাবেই’ কার্যকর হবে।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতোমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে ফেলা দেশগুলোর ওপরও এই নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ হবে। এসব দেশ এখন নিজেদের চুক্তিতে নির্ধারিত শুল্ক হারের বদলে সেকশন ১২২-এর অধীনে বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্ক দেবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ১০ শতাংশ শুল্ক হারের আওতাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রয়েছে। তবে তালিকাটি এখানেই শেষ নয়।







