একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে পাল্টা স্লোগানের মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বের হয়ে যাওয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে ‘একাত্তরের দালালরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ‘ভাষা সৈনিক গোলাম আযম, লও লও লও সালাম’ স্লোগান দেন।
পরে জামায়াতের আমিরকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে দেখা যায়।
এর আগে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।সাধারণত জামায়াতে ইসলামী শহীদ মিনারে কখনো ফুল দিতে না এলেও এবছর কেন এসেছে, এক সাংবাদিক জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, এবার রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে আমার সঙ্গীদের নিয়ে এখানে আসতে হবে, তাই ফুল দিতে এসেছি।
এখনও জামায়াতে ইসলামী ফুল দেওয়াকে নাজায়েজ মনে করে কি না, ওই সাংবাদিকের এমন প্রশ্ন জামায়াত আমির এড়িয়ে যান।
তিনি বলেন, আমরা ভাষা শহীদদের আগে ১৯৪৭ সালে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। ১৯৫২ সালের শহীদদের স্মরণ করি। ১৯৭১ সালের যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের স্মরণ করি। ১৯৯০ গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের স্মরণ করি।
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের স্মরণ করি।
জামায়াত আমির বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ হয়েছেন, বিশেষ করে বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। শেষ পর্যন্ত আমরা স্মরণ করি যারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে জীবন দিয়েছেন, আমাদের ওসমান হাদিকেও স্মরণ করি। তারা যে কারণে লড়াই করেছেন, সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সেই লড়াই আমরা অব্যাহত রাখব।
একটি দুর্নীতিমুক্ত, ফ্যাসিবামুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গঠন করার জন্য আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন জামায়াত আমির। জিয়ারত শেষে তিনি বলেন, আজিমপুর কবরস্থানে তিনজন ভাষা শহীদের দাফন সম্পন্ন হয়েছিল। আমরা তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করতে এসেছি। আমরা ফাতেহা পাঠ করেছি। সুরা এখলাস তিলাওয়াত করেছি। আমরা জাতির এই সমস্ত বীর সন্তানদের জন্য দোয়া করেছি।
প্রদা/ডিও