মেগা প্রকল্পের নামে ঋণ নিয়ে আওয়ামী সরকারের আমলে তা পাচার হয়েছে বলে দাবি করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসময় পাচার করা অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। খসরু বলেন, ঋণের চাপ অনেক বড়। ঋণ নিয়েছে, কিন্তু ভালো প্রজেক্টে বিনিয়োগ না করে লুটপাটের প্রজেক্ট করেছে। এই টাকাগুলো বাইরে চলে গেছে। সুতরাং যে জিনিসটা নেই তার দায় পরিশোধ করতে হবে এ সরকারকে।
গতকাল চট্টগ্রামে এসে মা–বাবার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশের ওপর ঋণের চাপ এখন অনেক বড়। ঋণ নেওয়া হলেও তা উৎপাদনশীল খাতে যথাযথভাবে বিনিয়োগ না হয়ে অপচয় ও লুটপাটে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ফলে যে সম্পদ দেশে দৃশ্যমান নয়, তার দায় বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে—যা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম চট্টগ্রাম সফর। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। পরে কাট্টলীতে পারিবারিক কবর জিয়ারত ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন থেকেই সেই কাজ শুরু হবে। বন্দর কার্যক্রম আরও আধুনিক ও দক্ষ করতে হবে, বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। তার মতে, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের মাধ্যমেই চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের উন্নয়ন—এ কথা উল্লেখ করে তিনি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
শেয়ারবাজার নিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সূচক বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। ভালো ও স্বচ্ছ কোম্পানিকে বাজারে আনতে আইন-কানুন ও নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হবে। দেশি-বিদেশি তহবিল আকৃষ্ট করা এবং বাজার পরিচালনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার আশা, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য রূপান্তর ঘটবে, যা সামগ্রিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সরকারের প্রথম বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি হবে অংশগ্রহণমূলক ও বৈষম্যহীন। অর্থনীতির সুফল যেন সবার কাছে পৌঁছে যায়—সেই লক্ষ্যেই বাজেট প্রণয়ন করা হবে। বিশেষ গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সুবিধা বা পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি থেকে সরে এসে সমান সুযোগের পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হ্রাস এবং বেসরকারি খাতে মূলধন আমদানি কমে যাওয়ার মতো নানা সূচক উদ্বেগজনক। এই কঠিন অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার ইতোমধ্যে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, ঋণব্যবস্থাপনা, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন
প্রদা/ডিও







