ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরতে যাচ্ছে।
প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ আসনের সীমার চেয়ে অনেক বেশি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে বিএনপি। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী এ পর্যন্ত পেয়েছে প্রায় ৫০টি আসন।
শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে ঢাকা-১৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ঢাকা-১১ আসনে জয় পেয়েছেন এনসিপির প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।
এবার বেশি নজর কেড়েছে নির্বাচনের দিনের পরিবেশ। সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও শেষপর্যন্ত ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণই হয়েছে। দেশের অধিকাংশ জায়গায় ভোটাররা উৎসবমুখর এবং শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোট দিয়েছেন।
ঢাকা-১৫ আসনে বিজয়ী জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. শফিকুর রহমান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১টি ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭টি ভোট।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে জামায়াতের আমির ২১ হাজার ৬১৪ ভোট বেশি পেয়েছেন। ১২৮টি কেন্দ্রের ভোট গণনা থেকে এই ফলাফল জানা যায়।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। ভোট পড়েছে এক লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪টি। বাতিল হয়েছে দুই হাজার ২৮৮টি ভোট।
ভোট পড়ার হার ৪৪ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে জামায়াতের পক্ষ থেকে ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচন ফলাফল নিয়ে কারসাজির অভিযোগ করা হয়।
দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতলেন এনসিপির নাহিদ
ঢাকা-১১ (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে জয়লাভ করেছেন। মোট ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট, যা নাহিদের চেয়ে দুই হাজার ৩৯ ভোট কম।
বিএনপিকে ‘বিজয়ের শুভেচ্ছা’ মার্কিন দূতাবাসের
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ওই পোস্টে বলা হয়েছে, ‘একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা। আমাদের দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সাথে কাজ করারজন্য যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।’
বিজয়ের পর আনন্দ মিছিল নয়, দেশব্যাপী দোয়া কর্মসূচি বিএনপির
নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসনে নিজেদের বিজয় দাবি করে দেশব্যাপী দোয়া কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার বাদ জুম’আ ঢাকাসহ সারাদেশের মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনে বিজয় উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনন্দ মিছিল বা সভা করা হবে না। দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে দেশব্যাপী আয়োজিত দোয়া কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া সারাদেশের মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তুমুল লড়াইয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হারিয়ে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের জয়
ঢাকা-৮ আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পেছনে ফেলে তিনি এ আসনে জয় নিশ্চিত করেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৫৫২টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২টি ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত আসনগুলোর একটি ঢাকা-৮। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হয়েছে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস এবং শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মধ্যে।
মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী ববি হাজ্জাজ
ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি’র প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে রিক্সা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি ভোট।
ট্রাক নিয়ে বিজয়ী নুর, তবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়েও হারলেন রাশেদ খান
ট্রাক প্রতীক নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বিজয়ী হলেও হেরেছেন দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৬৬টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন ৮০ হাজার ৫৬০টি ভোট পেয়েছেন
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান নির্বাচন শুরুর আগে আগে দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। তারপরও তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালেবের কাছে হেরেছেন। আবু তালেব পেয়েছেন এক লাখ ৫৯ হাজার ৯৯টি ভোট, অন্যদিকে এই আসনের নির্বাচনে রাশেদ খান তৃতীয় অবস্থানে থেকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪টি ভোট।
প্রদা/ডিও







