দেশে ছোলার বার্ষিক চাহিদার তুলনায় চলতি বছরে আমদানি প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি হলেও রমজানকে সামনে রেখে খুচরা বাজারে এ নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় আমদানি ৭৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে, কিন্তু খুচরা পর্যায়ে গত দুই সপ্তাহে কেজিপ্রতি ছোলার দাম ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে আমদানির চিত্র ইতিবাচক হলেও সরবরাহ চেইনের বিভিন্ন স্তরে হাতবদলের কারণে বাজারে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ভোক্তা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যথাযথ তদারকি না থাকলে রমজান ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দাম আরও বাড়তে পারে।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, দুই সপ্তাহ আগে যে ভালো মানের ছোলা কেজিপ্রতি ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ৮২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মাঝারি মানের ছোলার দামও ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকায় পৌঁছেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব সরাসরি খুচরা পর্যায়ে পড়ছে। রমজানকে কেন্দ্র করে আগাম চাহিদা বাড়তে থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে বলে তাদের দাবি।
বাংলাদেশে ছোলার বার্ষিক সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ছোলা আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫৬ মেট্রিক টন, যা চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর আগের বছর ২০২৪ সালে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯২৯ মেট্রিক টন বা প্রায় ৭৭.৬১ শতাংশ।
তবে সার্বিকভাবে চলতি বছরের বাজারদর গত বছরের তুলনায় এখনও কিছুটা স্বস্তিদায়ক। গত বছর রমজানের আগে ছোলার কেজি যেখানে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় উঠেছিল, এবার তা মানভেদে ৭৫ থেকে ৮২ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে ক্রেতারা গত বছরের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কম দামে ছোলা কিনতে পারছেন।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, বর্তমানে বাজারে ছোলা, মটর ও খেজুরসহ রমজান সংশ্লিষ্ট পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তাঁর মতে, আমদানির আধিক্যের কারণেই গত বছরের তুলনায় এবার ছোলার দাম অনেকটাই কম রয়েছে।
তবে তিনি জানান, অতিরিক্ত আমদানির ফলে অনেক ব্যবসায়ী আগে বেশি দামে পণ্য কিনে এখন কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার কারণে লোকসানও গুনতে হচ্ছে।
অন্যদিকে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের মনোযোগ অন্যদিকে থাকায় বাজার মনিটরিং কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পর্যাপ্ত মজুত ও আমদানি থাকা সত্ত্বেও বাজার স্থিতিশীল রাখতে এখনই শক্ত মনিটরিং ও কার্যকর তদারকি জরুরি, নইলে রমজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মূল্যচাপ আরও বাড়তে পারে।
প্রদা/ডিও







