নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহনে। বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সকাল থেকেই অফিসপাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যস্ত মোড়গুলোতে দেখা গেছে তীব্র যাত্রীর চাপ। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেককে বাস না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রামপুরা, ফার্মগেট, শাহবাগ, মিরপুর-১০, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন।
তবে কিছু বাস এলেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেকেই উঠতে পারেননি।মতিঝিলগামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী নাজমুল হাসানের সঙ্গে কথা হয় রামপুরা ব্রিজে। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল বন্ধ থাকায় বাস ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু বাস কম, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অফিসে যেতে হচ্ছে।
সময়মতো পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদেরও। মহাখালী থেকে মালিবাগগামী গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, রিকশাও সব জায়গায় যাচ্ছে না। বাসে উঠতে গেলে ধাক্কাধাক্কি।
ছোট বাচ্চা নিয়ে চলাচল খুব কষ্টকর।সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল ও কলেজে যাওয়া শিক্ষার্থীরা। মতিঝিল মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ক্লাস টেস্ট চলছে, বাস সংকটের কারণে দেরি হয়ে যাচ্ছে।
পরিবহন শ্রমিকদের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক গাড়ি সড়কে নামানো যাচ্ছে না। মগবাজার এলাকায় কথা হয় একটি বাসের সহকারীর সঙ্গে।
তিনি বলেন, বাস কম থাকায় যাত্রীর চাপ বেশি। চালকরা ভয় পাচ্ছেন, চেকপোস্টে ঝামেলা হতে পারে। তাই অনেক মালিক গাড়ি নামাচ্ছেন না।তুরাগ বাসের চালক আলী মিয়া জানান, যাত্রীদের রাগ আমাদের ওপর পড়ে কিন্তু রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে গেছে।
নির্বাচন উপলক্ষ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের আগের দিন মধ্যরাত (বুধবার রাত ১২টা) থেকে ভোটের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত (রাত ১২টা) পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নগরবাসীর দাবি, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার পাশাপাশি সিটির ভেতরে গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ব্যবস্থাপনা জোরদার করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।