বাঁশখালীতে অতীতেও অনেক জনসভা হয়েছে, তবে আজকের মতো এত বড় সমাবেশ আগে দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল (অব.) অলী আহমেদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, এই বিশাল উপস্থিতিই প্রমাণ করে বাঁশখালীর মানুষ পরিবর্তন চায়।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় বাঁশখালী উপজেলার জলদী পাইলট হাই স্কুল মাঠে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এগারো দলীয় জোটের উদ্যোগে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. অলী আহমেদ বলেন, সংকটের সময় তিনি সবসময় বাঁশখালীবাসীর পাশে ছিলেন। বর্তমানে শুধু বাঁশখালী নয়, পুরো দেশই নানা সংকটে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপির রাজনীতি ত্যাগ করার কারণ হিসেবে তিনি চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, অন্যায় ও দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনো আপস নেই।
তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে নারীরা সম্মান পাবে, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে, সবার জন্য আধুনিক শিক্ষা ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় থাকবে।
দেশে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বেইমান ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাঁশখালীর জনগণ ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে রায় দেবে। এ আসনে সৎ প্রার্থী হিসেবে জহিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে তাকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এবং নেজামে ইসলাম পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুফতি মুসা বিন ইজহার। প্রধান বক্তা ছিলেন সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম খান, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল হক, দক্ষিণ জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মাহাবুবুর রহমান হানিফ, শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আরিফ উল্লাহ।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জহিরুল ইসলাম বিজয়ী হবেন বলে তিনি আশাবাদী। তিনি ন্যায় ও মৌলিক অধিকারভিত্তিক একটি নিরাপদ বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মাওলানা মুফতি মুসা বিন ইজহার বলেন, দেশে আর চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের স্থান হবে না এবং জনগণ ঋণখেলাপিদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি আরও বলেন, যারা জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে না, জনগণ নির্বাচনে তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে। এগারো দলীয় জোট সরকার গঠন করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রার্থী জহিরুল ইসলাম ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জোট নির্বাচিত হলে দেশকে চাঁদাবাজমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নতুন বাঁশখালী গঠনে দুর্নীতিবাজদের ‘লাল কার্ড’ দেখাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জনসভা শুরুর আগেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা মাঠে জড়ো হন। এতে জলদী পাইলট হাই স্কুল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। দুপুরে শুরু হওয়া এই জনসভা রাত ৮টায় শেষ হয়।
প্রদা/ডিও







