সাত মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ৫৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৪০ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫০ শতাংশ কম। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ২ হাজার ৮৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক।
দেশে এবারই প্রথমবারের মতো মোট রপ্তানি আয় সংকুচিত হয়েছে, অর্থাৎ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।
এর আগে রপ্তানি আয় কমলেও তা প্রবৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এবার রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় নিচে নেমে এসেছে।দেশে বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যে এক ধরনের দমবন্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় রপ্তানি আয়ের এই চিত্র পূর্বনির্ধারিত ছিল বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তা নেতারা।
এ বিষয়ে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আগামী জুনের আগে এই অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। নতুন সরকার আসবে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানির নীতি নির্ধারণ করবে, তারপর ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তার আগে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সরকার গঠন হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি।দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণেই দেশের মোট রপ্তানি আয় সংকুচিত হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-জানুয়ারি সাত মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ২৯৮ কোটি ২ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ২ হাজার ৩৫৫ কোটি ২০ লাখ ২০ হাজার ডলার।তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আয় সংকোচন হয়েছে প্রায় দেড় শতাংশ। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের দুই উপখাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্য সংযোজন হওয়া নিট পোশাকে রপ্তানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ। একক মাস হিসেবে জানুয়ারিতে রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
জানুয়ারি মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আগের বছরের জানুয়ারি মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৩৬৬ কোটি ৪৩ লাখ ২০ হাজার ডলারের পোশাক পণ্য।চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়লেও পরবর্তী মাসগুলোতে একনাগাড়ে রপ্তানি কমেছে। বিষয়টি উদ্যোক্তাদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর বহির্বিশ্বে কোথাও রপ্তানি খাত স্বাভাবিকভাবে চলছে না। ক্রেতাদের কার্যাদেশ, সময় ও পরিমাণ—সবকিছুতেই পরিবর্তন এসেছে। দেশে ও বিদেশে মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকের সুদহারসহ সবকিছুতেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। সর্বোপরি বিশ্বজুড়ে চাহিদা কমে গেছে।
এই বাস্তবতায় দাম কমানোর জন্য ক্রেতাদের চাপ রয়েছে। সে কারণেই রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমে মোট রপ্তানি আয়ে সংকোচন দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের ব্যাকওয়ার্ড লিংকে যেসব দেশ ভালো অবস্থানে আছে, তারা উৎপাদন খরচ কমিয়ে রপ্তানি বাড়াতে পারছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে ব্যাংক সুদহার বৃদ্ধি ও নানা অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে আমরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি।
বর্তমানে ব্যাংকের সুদহার বেশি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে, নতুন শ্রম আইনে ২০ জনেই ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে পারবে—এসব কারণে তৈরি পোশাক খাতে ঝুঁকি বেড়েছে। এর ফল হিসেবে অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা বন্ধ করে সরে যাচ্ছেন।