চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্থবির রয়েছে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম।
রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে খোলা পণ্য ও কনটেইনার ওঠানো-নামানো কার্যত বন্ধই রয়েছে।
এছাড়া বন্দরে পণ্য ডেলিভারির জন্য বিভিন্ন ধরনের কভার্ড ভ্যান, লরি, ট্রেলার প্রবেশ বন্ধ আছে; বন্দর পরিচালনা কার্যক্রমে স্থবরিতা দেখা দিয়েছে।
এনসিটি পরিচালনার ভার আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনি ও রোববার ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। শনিবারও কর্মবিরতির কারণে বন্দর পরিচালনা কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
প্রথম দিনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের নামে কর্মসূচি দেওয়া হলেও সেদিন বিকালে জানানো হয়- তাদের এ কর্মসূচি চলবে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রম পরিষদ’র নামে।
প্রথম দিনের কর্মবিরতির পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারী চারজনকে তাৎক্ষণিক বদলি করে। একদিনে কর্মবিরতিতে রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণ করতে ছয় সদস্যের একটি কমিটিও করে তারা।
অন্যদিকে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর ও আশপাশের এলাকায় শনিবার রাত ১২টা থেকে পরবর্তী একমাসের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার পর মধ্যরাতে ওই এলাকায় সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ কারণে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক রাখাসহ জনশৃঙ্খলা, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেইট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ক্রসিংসহ আশপাশের এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর বহন ও ব্যবহার এবং যে কোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও পথসভা ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ১ মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
এ আদেশ না মানলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ এর ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সিএমপি কমিশনার এ পর্যন্ত তিন দফায় এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সে কারণে কোনো ধরনের মিছিল সমাবেশ করছি না। শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দরে সকলপ্রকার কাজ থেকে বিরত আছেন। কর্মবিরতি শেষে বিকালে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।”
প্রদা/ডিও







