দীর্ঘ ২০ বছর পর এক রাজকীয় আবহে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পা রাখলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ঢাকা থেকে বিমানে করে তিনি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সম্বলিত একটি লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসে চড়ে তিনি নগরের হোটেল র্যাডিসন ব্লু বে-ভিউয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
বিমানবন্দরে নামার পর তিনি সেখানে উপস্থিত হাজারো নেতা-কর্মী ও উৎসুক জনতাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিমানবন্দর থেকে পতেঙ্গা সৈকত হয়ে লালখান বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ পথে প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য সন্ধ্যা থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন শত শত মানুষ। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর বেষ্টনীতে তাঁর গাড়িবহর যখন এগোচ্ছিল, তখন রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ স্লোগানে স্লোগানে তাঁকে স্বাগত জানান। তারেক রহমানও বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে জনতার সেই ভালোবাসার জবাব দেন।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমদ, চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। মেয়র শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, তারেক রহমান নবনির্মিত শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে লালখান বাজার দিয়ে হোটেলে পৌঁছান এবং পথজুড়ে জনতার বিপুল স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাজনৈতিকভাবে এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৫ সালের মে মাসে সর্বশেষ চট্টগ্রামের জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান। তৎকালীন সময়ে তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। দীর্ঘ ২০ বছর পর এবং চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দলের ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম চট্টগ্রাম সফর। আগামীকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সর্বশেষ এই মাঠে বক্তব্য দিয়েছিলেন বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ১৪ বছর পর একই মাঠে তাঁর সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান দলের প্রধান হিসেবে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন, যা বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
প্রদা/ডিও






