জমি দখল, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি এবং হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও রূপায়ণ গ্রুপের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ৪৩ জনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি রুজু করা হয় (তদন্ত নম্বর ৪৩)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তিগত জমি অবৈধভাবে দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে রূপায়ণ গ্রুপ। এই জালিয়াতিতে সরাসরি সহায়তার অভিযোগ উঠেছে রাজউকের ৩৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তারা আইন লঙ্ঘন করে নকশা অনুমোদন ও প্ল্যান পাসে গ্রুপটিকে অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব অবৈধ সম্পদ ও ভবন বিভিন্ন ব্যাংকে বন্ধক রেখে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, একই সম্পত্তি একাধিক ব্যাংকে বারবার বন্ধক রেখে নতুন করে ঋণ নেওয়া হয়েছে এবং সেই অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এমনকি ফ্ল্যাট বিক্রি করার তথ্য গোপন রেখেও ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ মোট ৬ জন এবং রাজউকের ৩৭ জন পদস্থ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আবেদনে আসামিদের পাসপোর্ট ও এনআইডিসহ বিস্তারিত প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, মামলার পরপরই অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব, শেয়ার এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে, আসামিরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ (BFIU) এবং পুলিশ সদর দপ্তরকেও অবহিত করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
প্রদা/ডিও






