বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর ভূমিকা এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) তাদের ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করেছে যে, জাতীয় সঞ্চয় সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যাংক খাতই মূল চালিকাশক্তি।
তবে এই খাতের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেশাদারিত্ব এবং স্বাধীনতার ওপর। একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেবল মুদ্রানীতি প্রণয়নই করে না, বরং ব্যাংক তদারকি ও সংকট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা যেকোনো দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত।
আইসিসিবি-র মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো খেলাপি ঋণের আকাশচুম্বী মাত্রা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কঠোর নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের কারণে ব্যাংকগুলো এখন তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে বাধ্য হচ্ছে। এতে খাতের দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি জরুরি প্রাথমিক পদক্ষেপ।
সংগঠনটি মনে করে, সুস্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে ইচ্ছাকৃত খেলাপি এবং প্রকৃত সংকটে পড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে পার্থক্য করা অত্যন্ত জরুরি।
যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন তাদের কাঠামোগত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন, অন্যদিকে ইচ্ছাকৃত আর্থিক অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক। আইসিসিবি আরও উল্লেখ করেছে যে, ২০২৫ সালের ব্যাংক রেজলিউশন অধ্যাদেশ সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি কাঠামোগত সমাধান পথ তৈরি করেছে।
শেষ পর্যন্ত, একটি স্বাধীন ও দক্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমেই দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিশ্ববাজারে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে বলে আইসিসিবি দৃঢ় মত প্রকাশ করেছে।
প্রদা/ডিও






