ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) মঙ্গলবার গভীর রাতেই বিপিএলসহ দেশের সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা দেয়। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিভিন্নভাবে সমঝোতার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিপিএলে। ফলে বৃহস্পতিবার ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচ—চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মধ্যকার লড়াই—অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
সূচি অনুযায়ী ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর ১টায়, আর টস হওয়ার কথা ছিল সাড়ে ১২টায়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো দল মাঠে হাজির হয়নি। এদিকে বনানীর একটি হোটেলে দুপুর ১টায় কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন নোয়াখালীর হেড কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন এবং চট্টগ্রামের টিম ডিরেক্টর হাবিবুল বাশার সুমন। এতে স্পষ্ট হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কর্মকর্তারাও ক্রিকেটারদের বয়কটের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এর ফলে দিনের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক মন্তব্য। বুধবার ক্রিকেটারদের নিয়ে একাধিক বিতর্কিত বক্তব্য দেন তিনি। বিশ্বকাপে অংশ না নিলে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রসঙ্গে নাজমুল বলেন, খারাপ পারফরম্যান্স করলে ক্রিকেটারদের পেছনে বোর্ড যে বিপুল অর্থ ব্যয় করে, তার জবাবদিহি কার কাছে চাইবে—এ প্রশ্নের উত্তর তিনি ক্রিকেটারদের কাছ থেকেই জানতে চান।
এ ছাড়া তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্বকাপে না খেললে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্রিকেটাররাই, বোর্ড নয়। এসব বক্তব্যের পরই রাতে জুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা দেন।
এর আগে বুধবার গভীর রাতে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। তবে সেই উদ্যোগও ফলপ্রসূ হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এম নাজমুল ইসলামকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত জানায়।
তবুও কোয়াব তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ ছাড়া তারা কোনো সমঝোতায় যাবে না।
প্রদা/ডিও






