আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ন্যূনতম প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করেছে ১২টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘নারী রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম’। ফোরামের দাবি, ঘোষিত পাঁচ শতাংশ নারী মনোনয়ন দেওয়ার অঙ্গীকারও অধিকাংশ দল পূরণ করেনি, যা রাজনৈতিক দলগুলোর নারী নেতৃত্ববিমুখ মানসিকতারই প্রতিফলন।
সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নারী প্রার্থী মনোনয়ন সংকট: দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের ব্যবধান এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে অন্তত ৩০টি দলে একজন নারী প্রার্থীও নেই। এমনকি যেসব দল নারী মনোনয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারাও বাস্তবে সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেনি।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের প্রতিনিধি রিতু সাত্তার। তিনি বলেন, ‘নারীরা রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে মনোনয়ন ৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। যৌথ নারী প্রার্থীর সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগানো হয়নি। জুলাই সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্ব দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ নারী নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় রাখা হচ্ছে না। নারীদের শুধু কমিটিতে রাখা হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় না।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শেষ মুহূর্তে কিছু স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও সামগ্রিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত হতাশাজনক। নির্বাচন কমিশন ‘জেন্ডার ইনক্লুসিভ ইলেকশন’-এর কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো দৃশ্যমান প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
ফোরামের নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, তারা সংরক্ষিত আসনের বিপক্ষে। তাদের দাবি, নারীরা যোগ্যতার ভিত্তিতে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন—আলাদা সংরক্ষিত ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই।
বক্তারা আরও বলেন, ৫৪ বছরের নির্বাচনী ইতিহাসে এবার নারীদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে কম, যা শুধু নারীদের জন্য নয়, পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্যই লজ্জাজনক। রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের ঘোষণাপত্র ও প্রতিশ্রুতি নিজেরাই বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ভবিষ্যতে নারীরা কেন তাদের ওপর আস্থা রাখবে—সে প্রশ্নও উঠে আসে।
ফোরাম নেতা সামিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘দেশে নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি। এত বড় জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তাই প্রশ্নবিদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য নারীদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সংগঠিত করা এবং নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।’
তিনি জানান, নারী প্রার্থীরা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন, তা ফোরাম পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবিষ্যতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় বসে রাজনৈতিক দলগুলোর ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
প্রদা/ডিও






