চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে প্রশাসন পরিচয়ে একাধিক দফা গাড়ি থামিয়ে এক তরুণ আইনজীবীকে ভয়ভীতি ও জোরপূর্বক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোনো থানার পুলিশ কিংবা ডিবি সদস্য জড়িত নয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ৯ জানুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া–চট্টগ্রাম অংশে।
ভুক্তভোগী এডভোকেট মোহাম্মদ সাকিব (২৮) নিজস্ব ব্যক্তিগত গাড়ি (সাদা টয়োটা কেরিনা,চট্টমেট্রো-গ-১১-৫৪৪০) চালিয়ে লোহাগাড়া থেকে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে একা রওনা দেন।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে, চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া কলেজ সংলগ্ন নির্মাণাধীন সেতুর ওপর। সেখানে সিভিল পোশাকধারী দুই ব্যক্তি ওয়্যারলেস হাতে প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে তার গাড়ি থামান এবং গ্লাস নামাতে বলেন। কথা বলার একপর্যায়ে সাকিব তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আইডি কার্ড দেখতে চাইলে তারা কোনো আইডি দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গাড়ির দরজা খুলতে বলেন। তাদের আচরণ ও ভঙ্গিমা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সাকিব কৌশলে গাড়ি সরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
তৎক্ষণাৎ গণমাধ্যমকর্মীরা দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিশ্চিত করেন, ওই স্থানে পুলিশের কোনো চেকপোস্ট বা টহল দল ছিল না এবং হাইওয়ে থানা নিশ্চিত করে যে তারা বিষয়টি আমলে নিয়ে যাচাই করছে। চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে উনাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ১০ মিনিটের মধ্যে, পটিয়া উপজেলার শান্তির হাট বাজার এলাকায় একটি নোয়া গাড়ি থেকে নেমে চার ব্যক্তি ডিবি পরিচয়ে সাকিবের গাড়িতে সিগন্যাল দেন। তারা হাতে হ্যান্ডকাফ প্রদর্শন করে জোরপূর্বক তার গাড়িতে উঠে বসে এবং দাবি করে, “আমাদের কাছে আপনার বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ ইনফরমেশন আছে, দীর্ঘ সময় ধরে আপনার লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে।” তারা আইনজীবী সাকিবের গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কক্সবাজারমুখী সড়কে চলতে শুরু করে। এ সময় বারবার আইডি কার্ড দেখাতে বললেও তারা তা দেখায় নি। একপর্যায়ে সাকিব জানান, তিনি একজন আইনজীবী এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে থানায় জানানো হয়েছে। এরপর ওই ব্যক্তিরা তার মোবাইল ফোনের লোকেশন বন্ধ করতে বলে। এর মাত্র ২–৩ মিনিট পর মনসা বাদামতল এলাকা থেকে প্রায় ৩–৪ কিলোমিটার দূরের একটি নির্জন স্থানে, কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ বা যাচাই ছাড়াই তারা হঠাৎ করে সাকিবকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনা সম্পর্কে পটিয়া সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন ডিবি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও নিশ্চিত করেন, ডিবি পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা তাদের বিভাগের কেউ নয় বা তাদের কোন টিম এই ঘটনাই ছিল না।
পরবর্তীতে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় সাকিব নতুন ব্রিজ এলাকা দিয়ে শহরে প্রবেশ না করে কর্ণফুলী টানেল হয়ে আনোয়ারা পথে রওনা দেন। কিছু দূর যাওয়ার পর তিনি লক্ষ্য করেন, মনসা বাদাম তুলে থামানো সেই গাড়িটি তাকে অনুসরণ করছে। তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে না করায় টানেল মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় অবস্থান নেন এবং পুলিশের সহায়তা নেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আইনজীবী মোঃ সাকিব অভিযোগ দাখিল ও সাধারণ ডায়েরি করেছে এবং দ্রুততর সময়ের মধ্যে গাড়ি থামানো ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত পূর্বক প্রশাসনের তৎপরতার জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রদা/ডিও






